
মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের টেকনাফে আধিপত্য বিস্তারকে করে নবী হোসেন প্রকাশ লাদেন বাহিনীর সাথে হাবিবুর রহমান ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে দা,কিরিচ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। পরে দু’গ্রুপের মধ্যপ ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এতে নবী হোসেন প্রকাশ লাদেন গ্রুপের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে । আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল সোয়া তিনটার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তর কানজরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত সিরাজী বলেন,খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহতদের স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান,নবী হোসেন লাদেন এক সময় শীর্ষ ডাকাত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা রয়েছে । পরে কিছু মামলাতে শীর্ষ ডাকাত লাদেন খালাস পেয়েছে বলে জানা গেছে। সে কিছুদিন তাবলীগ জামাতে গিয়েছিল। পরে এলাকায বসবাস করে আসছিল আবারো সেই পুরোনো পেশা ডাকাতি,সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ফিরে যায়।
এরপর থেকে একেরপর এক গোলাগুলি করে স্থানীয়দের আতঙ্ক রাখতো লাদেন গ্রুপ। প্রায় সময় সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালালেও তাদের অস্ত্রের ঝনঝনানির ভয়ে কেউ মুখ খুলে কথা বলার সাহস করেন না।
এদিকে লাদেন বাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিল হাবিবুর রহমান ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপ। হঠাৎ তাদের মধ্যেও ইয়াবার চালানের বাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরপর থেকে লাদেন গ্রুপ আর শাহাবুদ্দিন গ্রুপ আলাদা হয়ে নিজেরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটিয়েছে ।
অবশেষে মঙ্গলবারও তাদের সেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দা,কিরিচ নিয়ে কাটাকাটি শুরু করে পরে আবার দুই গ্রুপে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তুমুল গোলাগুলি বিনিময় করেছে বলে জানা গেছে । এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে । তবে যেকোনো সময় তাদের দু’গ্রুপের মধ্যে আবারো বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানায়,শাহাবুদ্দিন কিছুদিন আগে র্যাবের হাতে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবারো ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছে শাহাবুদ্দিনরা গংরা । এতে করে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকার শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
