
নাসিরাজুল ইসলাম শ্যামনগর সাতক্ষীরা প্রতিনিধ
খুব বেশি দিন না মাত্র ২ যুগ আগে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা গ্রামগঞ্জে ছিল সব কাঁচা রাস্তা যা বর্ষার সময় চলাচলের খুব উপযোগী হয়ে উঠত এমন কি এই সমস্ত কাঁচা রাস্তার মাটি শুকাতে আরসিন কার্তিক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত নাজাহান হয়ে যেত গ্রাম গঞ্জের মানুষ বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা ছিল খুব অবহেলিত তো এই দশক আগে এই এলাকার গ্রাম গঞ্জের ৯০ ভাগ রাস্তা কাঁচা রাস্তা ছিল দীর্ঘ যোগ ভোগান্তির পর এখন মানুষের দ্বারগরা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে কার্পেটিং রাস্তা এভাবেই সারা বাংলাদেশের কাছা রাস্তা আজ প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষ এখন বইয়ের বিশ্বের মত উন্নতযোগে বসবাস করছে। ছোটখাটো যে সমস্ত রাস্তা কার্পেটিং হয়নি সেগুলো হেয়ারিং বন্ড ইটের ছালিং হয়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষ আর এখন মাটিকাদায় পা দিয়ে চলেনা হাওর বাওর উপকূলীয় অঞ্চল সবখানেই রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ঘটেছে এই সমস্ত উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের সরকারের সাথে বিদেশি দাতারাও অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছে, মাটির তৈরি রাস্তায় গ্রামগঞ্জের আসল সৌন্দর্য, যুগ যুগ ধরে গ্রামের মানুষ এই মাটির তৈরি রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। তাদের ফসলি জমি থেকে ফসল উত্তোলন করে এই রাস্তা দিয়েই বাজারে নিয়ে যায়। এবং এই রাস্তা দিয়েই তাদের প্রতিদিনের যাতায়াত। তাদের একমাত্র ভরসা এই রাস্তা। কৃষকের একমাত্র ভরসা- এই রাস্তা। এই রাস্তা কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি। গ্রামের এই মাটির রাস্তা গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য একটি বিশেষ মাধ্যম। বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা কাঁদায় ভরে যায়। তবু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে।
এই রাস্তা দিয়ে গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল কলেজে লেখাপড়ার জন্য যাতায়াত করে। এই রাস্তা কে কেন্দ্র করে অনেক স্মৃতি বিচরিত রয়েছে আমার জীবনে। আমাদের কোন পাকা রাস্তা ছিল না, মাটির রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতাম। বাজারে যাওয়া স্কুলে যাওয়া, এবং কি ফসলের ধান রাস্তার পারে নিয়ে এসে ভ্যান দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসতাম। বর্ষার সময় যখন চারপাশ টই টুম্বুর থাকতো, তখন বর্ষার মৌসুমে রাস্তাও পানিতে তলিয়ে যেত। তবুও এই রাস্তা দিয়ে কাপড় বাঁচিয়ে চলাচল করতাম। শৈশবের অনেক স্মৃতি রয়েছে এই রাস্তা কে ঘিরে। মাঝে মাঝে এই রাস্তার সংস্কার করা হয়। অনেক সময় গ্রামবাসীর উদ্যোগেও এই রাস্তা সংস্কার করা হয়।
একবার আমার মনে আছে, বৃষ্টি হয়ে রাস্তা কাদা হয়ে গিয়েছিল। আমি সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম রাস্তা দিয়ে, হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে আমার পায়ে অনেক ব্যথা পেয়েছিলাম। গ্রামের এই আঁকাবাঁকা রাস্তা, গ্রামকে আরো সুন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। কবির ভাষা একটি কথা আছে, গ্রাম ছাড়া এই রাঙ্গামাটির পথ আমার মন ভুলায় রে। গ্রামের রাস্তায় যে মাটির গন্ধ টা পাওয়া যায়। সেটা আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে । আমি গ্রামের ছেলে, গ্রামের মাটিতেই আমার জন্ম। গ্রাম আমার অনুপ্রেরণা, গ্রাম আমার অহংকার।
শৈশবের দুরন্তপনা, ছোটাছুটি, এবং সাইকেল চালানো শিখা আমার এই রাস্তাটি ঘিরে। উঁচু নিচু রাস্তা, একটু বৃষ্টি হলেই কাদামাটির গন্ধ। রৌদ্রে ধুলার ছোটাছুটি, এই সৌন্দর্য কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে নাকো, শুধু এই সৌন্দর্যের দেখা মিলবে গ্রামের মাটির রাস্তা কে ঘিরে। তাইতো বারবার ফিরে যাই মাটির টানে গ্রামের রাস্তা ধরে গ্রামে।
গ্রামের এই মাটির রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অনেক গরুর গাড়ী, ভ্যান রিক্সা সাইকেল চলাচল করে। গ্রামের মানুষের সাথে এই রাস্তার গভীর মিতালী। রাস্তা গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সুন্দর করে তুলেছ। যেকোনো দিক দিগান্তে মানুষ চলাচল করতে পারে এই রাস্তার মাধ্যমে , মাটির রাস্তা কি কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছোট ছোট বাচ্চারা তাদের যাতায়াতের জন্য এই রাস্তা দিয়ে করে।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন গ্রামের কাঁচা মাটির রাস্তা দেখাই যায় না, ইট পাথরের তৈরি পাকা রাস্তায় হারিয়ে গিয়েছে এসব মাটির রাস্তা । গ্রামে যাদের জন্ম তারা এই রাস্তার সাথে গভীরভাবে সম্পর্ক। আমার এই গ্রামের রাস্তা নিয়ে সামান্য লেখা টুকু কেমন লাগলো তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। গ্রামের রাস্তাকে কেন্দ্র করে যদি আপনার জীবনে কোন স্মৃতি থাকে সেটাও কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনা করি। একটি উদাহরণ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নুর নগর ইউনিয়নের মাটির রাস্তা হেঁটে নুরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়ালেখা করে তিনি এখন বাংলাদেশের মন্ত্রী পরিষদের সচিব নাম ডক্টর আব্দুর রশিদ তার লেখাপড়া স্কুল জীবন কলেজ জীবন চলেছে এই গ্রাম গঞ্জের মাটির রাস্তায় চলাফেরা করে এমন উদাহরণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গুণীজনের জীবনে রয়েছে।
