সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিলুপ্তপ্রায় শাক-লতার ব্যতিক্রমী মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যে পরিবর্তন স্পষ্ট। বিশেষ করে উপকূলে জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অনেক দেশজ শাক, লতা ও ভেষজ উদ্ভিদ বিলুপ্তির মুখে।

বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এমন বিলুপ্তপ্রায় শাক-লতাকে সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে চণ্ডীপুর দুর্গামন্দির মাঠে দিনব্যাপী এ মেলায় প্রদর্শিত হয় ১৩১ প্রজাতির বিরল, বিলুপ্তপ্রায় ও অচাষকৃত লতাপাতা-শাক। এর মধ্যে ছিল– হলুদের ফুল, মুক্ত ঝুরি, নিমপাতা, উলো গাছ, ষষ্ঠী বট, খুত কৃমি, কালো কচু, ব্রাহ্মী শাক, পিপুল শাক, থানকুনি, সবুজ শাপলা, বন টমেটো ও হেলেঞ্চা সহ আরও অনেক প্রজাতি।

মেলায় স্থানীয় কৃষক, কিষানি, পরিবেশকর্মী ও সংগঠকরা অংশ নেন। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মিলন হোসেন জানান, বিভিন্ন শাক ও লতাপাতা নানা রোগ-ব্যাধি নিরাময় ও সুস্থতায় উপকারী। কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হোসেন বলেন, “হলুদের ফুল, মুক্ত ঝুরি এখন বিলুপ্তপ্রায়। এ ধরনের মেলা কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহ যোগাবে।”

মেলায় সর্বোচ্চ ১৩১টি শাক প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন লতিকা রানী। দ্বিতীয় হয়েছেন শম্পা রানী (১১৫টি শাক) ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন কল্পনা রানী (১০০টি শাক)।

প্রধান অতিথি কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসানুল্লাহ বলেন, “লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে বহু দেশজ প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের মেলা সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।” অনুষ্ঠানের সভাপতি কৃষক দিলীপ তরফদার বলেন, “পূর্বপুরুষরা যে লতাপাতা দিয়ে চিকিৎসা করতেন, সেগুলোকে আবার চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে চাই।”

মেলায় আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রিন কোয়ালিশন শ্যামনগর পৌরসভা ও বারসিকের কর্মকর্তারা।