সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ধীরগতি, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

উপজেলার ৯৫নং দক্ষিণ কাদাকাটি কালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে এ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।

আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, বাকি ৪০ শতাংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণকাজে শ্রমিকসংখ্যা কম থাকায় এবং নিয়মিত কাজ না হওয়ায় অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় টিনশেডের অস্থায়ী কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠদান করাতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। তীব্র তাপপ্রবাহ ও লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অফিস কক্ষের সংকটও দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে ২০২৪ সাল থেকে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বিদ্যালয়ের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

এ ছাড়া টয়লেট সুবিধার অভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দ্রুত কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি আপাতত শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মর্নিং স্কুল চালুর অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তাপপ্রবাহ বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে মর্নিং স্কুল চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।