শীতে দিশেহারা উপকূলীয় অঞ্চল: ১ কোটি মানুষের দুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : গত পাঁচ দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে উপকূলীয় অঞ্চলের ১৫ জেলা দিশেহারা। স্থায়ী ঘরহীন, উঁচু বেড়িবাঁধের ওপর টং ঘরে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষ তীব্র শীতে কাঁপছে। সরকারের শীতবস্ত্র ও সহায়তা পৌঁছায়নি, ফলে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া এবং ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্নবিত্তদের জীবন বিপন্ন। আঞ্চলিক আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন শীত আরও তীব্র হতে পারে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি, খুলনার কয়রা ও রামপাল, বাগেরহাটের মংলা উপজেলার মানুষদের আয় রোজগার নদী ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভর। কিন্তু তীব্র শীতে এই উপায় বন্ধ। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড়, বিশেষ করে শিশু হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সর্বাধিক। গত তিন দিনে কয়েক হাজার শিশু অসুস্থ হয়েছে।

দুবলার চর, আলোর কোলসহ সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে শুঁটকি উৎপাদনও প্রভাবিত হয়েছে। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো কম পাওয়ায় মাছ শুকানোতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শুঁটকি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত ১৫-২০ হাজার নারী-পুরুষ অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

শ্যামনগর উপজেলার ভামিয়া, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, নীলডুমুরসহ গ্রামে মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। রফিকুল ইসলাম, আশাশুনির ভ্যানচালক বলেন, শীতে ভ্যান চালানো কষ্টকর, আয়ও কমে গেছে। আকলীমা খাতুন জানান, ঠান্ডায় নদীতে জাল টানা অসম্ভব।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। শ্যামনগরের চার লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ শীতবস্ত্র, খাদ্য ও অর্থ সহায়তার জন্য চরম প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যেই কম্বল বিতরণ শুরু করেছে।

শীতের প্রকোপ শুধু উপকূল নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, নবীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত। শীতজনিত রোগে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ভুগন্ত সংখ্যা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পৌষের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। নাগরিকদের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের ধনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর উদ্যোগ জরুরি।শীতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠে আকুতি: “একটাই ছেঁড়া কম্বল আছে, সেটাও আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। শীতের রাতে ঘুমাইনা, আগুন জ্বালাই শীত নিবারণের জন্য। এখন কোন পথে সাহায্য পাব তা জানি না।”