
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সিরাজুল ইসলাম : শীতকালে শান্ত সুন্দরবনের নৈসর্গিক দৃশ্য পর্যটকদের মন মাতিয়ে তুলছে। লঞ্চ ও ট্রলারে চেপে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা নদী ও ম্যানগ্রোভ বনকে ঘিরে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বনাঞ্চলে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে দুষ্টু বানরগুলো পর্যটকদের দিকে ছুটে আসে খাবারের জন্য। পর্যটকরা বিভিন্ন ধরনের খাবার, চিপস ও সফট ড্রিংকস দিয়ে এই প্রাণীদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাঘ, হরিণের পাশাপাশি বনাঞ্চলের এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে বানর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও জলজ প্রাণী পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
সপ্তাহান্তে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আকাশ নীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার প্রায় দুই হাজার পর্যটক বনভ্রমণে এসেছেন। স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বনাঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
বর্তমান সময়ে সুন্দরবন ভ্রমণ এক সহজ ও আকর্ষণীয় প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণের কারণে ঢাকা থেকে খুলনা বা সাতক্ষীরা পৌঁছানো সহজ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী আবীর আবদুল্লাহ বলেন, “আগে দীর্ঘ সময় সড়কপথে যাতায়াতের কারণে সুন্দরবনে আসা সম্ভব হয়নি, এখন সহজ ভ্রমণের কারণে তিন দিনের জন্য পরিবারসহ বনভ্রমণে যাচ্ছি।”
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সুন্দরবনে ১ লাখ ২৮ হাজার পর্যটক এসেছিলেন, যেখানে রাজস্ব আয় ছিল ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পর্যটক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজারে, এবং রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
পর্যটন বৃদ্ধি সত্ত্বেও বন সংরক্ষণে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। সুন্দরবন ভ্রমণ নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি পর্যটকবাহী লঞ্চ সর্বোচ্চ ১৫০ জন পরিবহন করতে পারবে, এবং রাত্রিকালীন অবস্থানের জন্য সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে ৭৫ জনে। পাশাপাশি, বনাঞ্চলে কোনো ধরণের শব্দদূষণ, আবর্জনা ফেলা বা বন্যপ্রাণী নির্যাতন করা যাবে না।
বন কর্মকর্তা জেড এম হাসানুর রহমান জানান, নতুন পর্যটন স্পট এবং ইকো কটেজ গড়ে ওঠায় স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানও বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্রগুলো বনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এই বনাঞ্চল প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটন সম্ভাবনার জন্য এক অমূল্য সম্পদ। শীতকালে সুন্দরবন ভ্রমণ শুধু আনন্দদায়কই নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
