হাওর অঞ্চলে উড়াল সড়ক প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

সাইফ উল্লাহ, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার ভাটাপাড়া–জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পাথর ও বালু ব্যবহার করে সড়কের দুই পাশে সিসি ব্লক নির্মাণ করছে। অভিযোগ জানিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ধর্মপাশা উপিরচর হয়ে বাদশাগঞ্জ–মহিশেরকান্দা পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও দুই পাশে সিসি ব্লক বসানোর জন্য ২৮ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পেয়েছে হামীম ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড চ্যালেঞ্জার (জেভি) নামের কিশোরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ১৩ মার্চ কাজ শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প শুরুর পর থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের কচুয়ারচর এলাকায় কংস নদীর তীরে ভাড়া নেওয়া স্থানে ভিট বালু ও নিম্নমানের সিঙ্গেল পাথর দিয়ে ব্লক তৈরির কাজ চলছে।

এক সপ্তাহ আগে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন ওই স্থানে গিয়ে ২৫–৩০ হাজার ঘনফুট নিম্নমানের পাথর দেখতে পান এবং তা ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন। তবে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে একই পাথর ও বালু দিয়ে জোরেশোরে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার ব্লকের মধ্যে ৩০ হাজার ব্লক এসব নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহনগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর মিয়া ও হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এটা আমাদের উপজেলার কাজ হলে একে–বিরোধ করে কাজ বন্ধ করে দিতাম। নিম্নমানের ব্লক ভবিষ্যতে হাওর এলাকায় টিকবে না।’

খয়েরদিচর গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল বারেক বাক্কি বলেন, ‘প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি। সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করছে।’

ঠিকাদারের স্থানীয় প্রতিনিধি ক্ষিত্তিবাস দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর আর ফোন ধরেননি।

অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে নিম্নমানের পাথর দেখে নিষেধ করেছিলাম। পরে যাচাই–বাছাই করে ব্লক তৈরির উপযোগী মনে হলে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। কাজের ওপর আমাদের তদারকি রয়েছে।’

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’