লক্ষ্মীপুরে ব্যস্ততম সড়কে খানাখন্দ ও সংস্কারকাজে ধীরগতি, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র ও উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশজুড়ে শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও এর ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

সোনাপুর ফায়ার সার্ভিস থেকে রামগঞ্জ শিশু পার্ক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার এই সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সময়মতো সংস্কারকাজ শুরু না হওয়া এবং বৃষ্টির মধ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ মানুষকে হাসপাতাল, ব্যাংক, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া সড়কটির পাশে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, রামগঞ্জ রাব্বানিয়া কামিল মাদ্রাসা, রামগঞ্জ মডেল কলেজ ও রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ছয়-সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট-বড় ও ভারী যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালকেরা বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সচালকেরা। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের কারণে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সংস্কারকাজের ধীরগতির বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদার সংকটের কারণে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। বর্তমানে বাজারের প্রায় এক কিলোমিটার (৯১২ মিটার) অংশে সংস্কারকাজ চলছে। সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় এবং টানা বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা কমে গেছে। তবে আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই অংশের কাজ শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কের পুরো অংশ সংস্কার করা হবে।’