
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দাফনের দুই মাস পর সৌদি আরবপ্রবাসী মহসিন কবিরের (৩২) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থেকে আদালতের নির্দেশে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
উত্তোলনকাজে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাশ। উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক মোবারক হোসেন। এ সময় এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
মহসিন কবির স্থানীয় মাওলানা নুরুল্লাহর ছেলে। পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ ডিসেম্বর চাকরির উদ্দেশ্যে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাঁর মালিক মোরশেদ আলমের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে সেই দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে।
চলতি বছরের ১৭ আগস্ট সৌদিতে মহসিন অপহরণ হন। অপহরণের পরপরই তাঁর সঙ্গে পরিবারের সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২ সেপ্টেম্বর মরদেহ দেশে আসে।
মরদেহ গ্রহণের সময়ই পরিবার দাবি করে, মহসিন স্বাভাবিকভাবে মারা যাননি; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে ২২ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী রওশন আক্তার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মোরশেদ আলমকে। তাঁর স্ত্রী রোকসানা আক্তার, আত্মীয় হাছিব ও রায়হানকেও আসামি করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হাসন্দী এলাকার বাসিন্দা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ বলেন, “হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সঠিক মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুনরায় দাফন করা হবে।”
বর্তমানে মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
