লক্ষ্মীপুরের ১৯ ইউনিয়ন পরিষদে নেই নিজস্ব ভবন, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভবন ছাড়াই অস্থায়ী দোকান ও টিনশেড কক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এতে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৯টির নিজস্ব ভবন নেই। এসব পরিষদে ভাড়া করা দোকান, টিনশেড ঘর কিংবা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত স্থাপনায় দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে।

সরেজমিনে দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাজারের একটি দোকানঘরে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। পর্যাপ্ত বসার জায়গা না থাকায় সেবা নিতে আসা মানুষজনকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। শৌচাগার না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে এভাবেই চলছে কার্যক্রম।

একই চিত্র টুমচর ইউনিয়ন পরিষদ-এও। সেখানে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে নির্মিত একটি টিনশেড ঘরে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে চলছে কার্যক্রম, যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও বসার জায়গার সংকট রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পরিষদের কার্যালয় ছোট দোকানঘর হওয়ায় সেবা নিতে এসে রোদ-বৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, বহুবার নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হলেও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সীমিত জায়গায় ভাড়া করা কক্ষে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে, ফলে গ্রাম আদালত চলাকালীন অনেকেই দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন।

টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাছের জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইউনিয়নে ভবন না থাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ি কিংবা অস্থায়ী স্থানে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে।

জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশেরই নিজস্ব জমি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। জমি নিশ্চিত না হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে আছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জমি পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সরকার সাধারণত জমি অধিগ্রহণ করে না, স্থানীয়ভাবে জমি নিশ্চিত করতে হয়।