“ওসির সহায়তায় ঘরে ফেরা: সাত মাস পর মায়ের কোল জড়িয়ে তিন কন্যার চোখে জল”

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে সাত মাস পর মায়ের স্নেহমমতা ও পুলিশের মানবিক সহায়তায় ঘরে ফিরলো তিন  কন্যাশিশু। 

স্থানীয় সূত্র, চন্দ্রগঞ্জ থানার পাঁচপাড়া আলা উদ্দিনের নতুন বাড়ির, শিরিন আক্তার নামের এক গৃহবধূ তার তিন কন্যাসহ দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর বাড়ির বাইরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, তার শাশুড়ি সালেহা বেগম, দেবর সালাউদ্দিন, জাল ইতি বেগম, ননদ নাজমা আক্তার, ননদের স্বামী জসীম উদ্দিন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য হান্নান মিলে তাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, স্বামীর মাধ্যমে তালাক দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিরিন। শিরিন আক্তারের দাবি, স্বামীর বাড়ির স্বজনরা রাতের আঁধারে তার ঘরের টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও মালামাল নিয়ে যায়। তবে অন্যদিকে তার ননদরা পাল্টা অভিযোগ করে, শিরিন নিজেই এসব জিনিস সরিয়ে ফেলেছেন। 

এ ছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাশুড়ি তাকে বিষ খাইয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। পরে বাড়ি ফিরে শিরিন দেখেন, তার পরিত্যক্ত ঘরে সাপের খোলস পড়ে আছে, যা তার মনে আতঙ্ক তৈরি করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। 

এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, “শিরিন তার তিন কন্যাকে নিয়ে থানায় এসে কান্নাকাটি করলে আমরা মানবিক কারণে তাকে সহায়তা করি। তাকে তার ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঘরে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছেন।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, পুলিশের এমন মানবিক উদ্যোগ আরও অনেক অসহায় পরিবারের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।