লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাড়ছে পান চাষ, হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক: Farzana Akter Bristy
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে পান চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ। তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ, দীর্ঘমেয়াদি ফলন এবং ভালো বাজারদরের কারণে এ অঞ্চলে পান চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক কৃষকের মুখে ফিরেছে স্বচ্ছলতার হাসি।

উপজেলার অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং সুষম সার প্রয়োগের কারণে চলতি মৌসুমে পানের উৎপাদন হয়েছে সন্তোষজনক। সুস্বাদু ও মানসম্মত হওয়ায় রায়পুরের পানের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত পান নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এক সময় উপজেলার মাত্র দুটি ইউনিয়নের সীমিত এলাকায় পান চাষ হলেও বর্তমানে তা বিস্তৃত হয়ে প্রায় ১০টি ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে পানের বরজকে কেন্দ্র করে বদলে যাচ্ছে অনেক কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনুকূল পরিবেশ থাকলে একটি পান বরজ থেকে টানা ৯ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন পাওয়া যায়। চলতি বছরে পানের উৎপাদন থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি আয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর রায়পুরে প্রায় ৪ হেক্টর জমিতে পান চাষ হলেও চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হেক্টরে। লাভজনক হওয়ায় নতুন নতুন কৃষক এ চাষে যুক্ত হচ্ছেন।

উপজেলার মিতালী বাজার এলাকার পান চাষি মহসিন বলেন, “আমাদের গ্রামে বেশির ভাগ কৃষকেরই পান বরজ রয়েছে। এক একর জমি থেকে প্রতি সপ্তাহে দুইবার করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার পান বিক্রি করি। এতে বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়। একবার বরজ তৈরি করলে ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যায়।”

অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ী জাবেদ মিয়া জানান, উপজেলার হায়দগঞ্জ, ক্যাম্পেরহাট ও নতুন বাজারসহ কয়েকটি স্থানে প্রতিদিন ভোরে পানের বড় পাইকারি হাট বসে। এসব হাট থেকে পাইকাররা পান কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন।

রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এখানকার পানের চাহিদা দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা গেলে পান চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকেরা অধিক লাভবান হবেন।