রোগী মোকসেদুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা সম্প্রচার তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

আলামীন রংপুর : রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোনারি এনজিওগ্রামের পর রোগী মোকসেদুল ইসলাম (৫৫)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতাল মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

চিকিৎসার পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরে হাসপাতাল

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বাসিন্দা মোকসেদুল ইসলাম ৫ নভেম্বর বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের হার্ট সেন্টারে ভর্তি হন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু জাহিদ বসুনিয়া তাঁর পুরোনো চিকিৎসক হওয়ায়, ভর্তি হওয়ার আগেই রোগী ও তাঁর সন্তানের সম্মতিতে করোনারি এনজিওগ্রাম করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তী দিন ৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় চিকিৎসক এনজিওগ্রাম ও হার্টে স্টেন্ট স্থাপন (রিং বসানো) করেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং স্টেন্ট স্থাপনের জন্য রোগী বা তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে কোনো আগাম অর্থ গ্রহণ করা হয়নি।

এনজিওগ্রামের পর রোগীকে সিসিইউতে নেওয়ার সময় হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে ক্যাথল্যাব টিম দ্রুত সিপিআর দেয় এবং চিকিৎসক সব ধরনের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরপর দ্রুত রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হয় এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি।

হাসপাতাল জানায়, আইসিইউতে রোগীর ছেলে উপস্থিত ছিলেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর বাবার অবস্থা বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেন। রোগী তখনো সাড়া দিচ্ছিলেন এবং কথা বলার অবস্থায়ও ছিলেন বলে দাবি করা হয়।

রাত ৮টার দিকে রোগীর দ্বিতীয়বার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর ও লাইফ সাপোর্ট দিলেও শেষ মুহূর্তে আর তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, মৃত্যুর খবর জানাতে গেলে রোগীর স্বজনরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তখনই তাঁদের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ শুরু করেন এবং ‘ভুল তথ্যসহ’ হাসপাতালবিরোধী প্রচারণা ছড়িয়ে দেন। এতে আইসিইউসহ হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়।

কর্তৃপক্ষ মনে করে, বিল পরিশোধ এড়ানোর উদ্দেশ্যে বা ভুল ধারণা থেকে রোগীর স্বজনরা এমন আচরণ করতে পারেন। এই ঘটনায় হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সুনাম ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অযাচিত লাইভ ভিডিও, ভুল ব্যাখ্যা ও আবেগপ্রবণ মন্তব্য সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। ফলে আইসিইউর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ইউনিটেও অস্থিরতা তৈরি হয়, যা হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “অতীতে আপনারা আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষ ও সত্য তথ্য তুলে ধরলে স্বাস্থ্যসেবা এগিয়ে যাবে।”

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের পরিচালক, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।