
নাজমুল হোসেন : দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি মৎস্য খাত। কিন্তু সনাতন পদ্ধতির কারণে অনেক সময়ই কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হন খামারিরা। এই বাস্তবতায় চাঁদপুরের কচুয়ায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে মৎস্যচাষিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে স্থানীয় খামারিদের দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তোলাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার দারচর বাজারে ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক অগ্রগামী মৎস্যচাষি অংশ নেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় শুধু তাত্ত্বিক আলোচনাই নয়, বরং চাষিদের দেওয়া হয়েছে বাস্তবভিত্তিক ও হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ। প্রশিক্ষণে আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুর প্রস্তুতকরণ, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, প্রোবায়োটিক ও এয়ারেটরের সঠিক ব্যবহার এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এর পাশাপাশি মানসম্মত পোনা নির্বাচন, সুষম খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা এবং মাছের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে চাষিদের দিকনির্দেশনা দেন বিশেষজ্ঞরা।
“আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে মৎস্য চাষে উৎপাদন যেমন দ্বিগুণ করা সম্ভব, তেমনি মাছের রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। এই ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।”
কর্মশালার একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল উন্মুক্ত আলোচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা। যেখানে চাষিরা মাঠপর্যায়ে মাছ চাষ করতে গিয়ে যেসব বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হন, তা তুলে ধরেন। উপস্থিত মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা চাষিদের সেসব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান ও পরামর্শ দেন। দিনশেষে অংশগ্রহণকারী সকল সফল চাষির হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬ নম্বর কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আকতার হোসাইন। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে চাষিদের গাইড করেন চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক তাজিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক ফিশারিজের বিক্রয় কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার সাহা।
দেশজুড়ে এই উদ্যোগ ছড়ানোর পরিকল্পনা
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তারা জানান, দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রান্তিক খামারিদের দক্ষ করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তারই অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
স্থানীয় মৎস্যচাষিরা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা এখন আরও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাছ চাষ করতে পারবেন, যা তাদের আর্থিকভাবে আরও লাভবান করবে।
