রায়পুরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা, অস্বীকার অভিযুক্তের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

মো. ওমর ফারুক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন আরেক বিএনপি নেতা।

গত বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে নিজ এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজ এই অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগকারী শাহজাহান কবিরাজ উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, তিনি বৈধভাবে ৫৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে পরে তা বিক্রি করেন। কিন্তু জমি বিক্রির পর সাবেক যুবদল নেতা জাকির হোসেন, তাঁর ভাই তোফাজ্জলসহ মুরাদ, ছিদ্দিক ও জাহেরের নেতৃত্বে একটি চক্র তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

শাহজাহান কবিরাজ আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় জমি কেনাবেচা হলেই একটি প্রভাবশালী চক্র সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে। চাঁদা না দিলে জমি ভোগদখলে বাধা দেওয়া হয় এবং প্রতিবাদ করলে হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় মনির হাজী, খোকন ফরাজী, হাসান কবিরাজ ও কামাল আকঞ্জী উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক যুবদল নেতা জাকির হোসেন বলেন, “এটি মূলত জমি নিয়ে বিরোধ। আমি নিজেও ওই এলাকায় জমি কিনেছি। শাহজাহানও জমির মালিকানা দাবি করছেন। মূলত জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”

বিষয়টি নিয়ে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজী বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ থাকলেও এখনো বৈঠক হয়নি। আমার জানামতে, চাঁদা দাবির অভিযোগটির কোনো সত্যতা নেই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হক বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জাকির হোসেন ইতিমধ্যে শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। তবে চাঁদা দাবির বিষয়ে শাহজাহান কবিরাজ এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রায়পুরের বিভিন্ন এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধে প্রায়ই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাই এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।