
নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর (রায়পুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজারের ইজারা মূল্য বৃদ্ধি ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে পৃথক মামলা হয়েছে। এতে গত ১৫ দিন ধরে বাজার দুটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্রেতা, মসজিদ কমিটি ও প্রশাসনের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মীরগঞ্জ ও উপকূলীয় মোল্লারহাট বাজার প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে মীরগঞ্জ বাজার ৭ লাখ টাকা এবং মোল্লারহাট বাজার ৫৬ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও চলতি বছর যথাক্রমে ১৫ লাখ ও ৮৫ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। একইভাবে উপজেলার আরও ২৪টি হাটবাজারেও আগের তুলনায় বেশি মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
মীরগঞ্জ বাজার নিয়ে কেরোয়া ইউনিয়নের একটি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন এবং মোল্লারহাট বাজার নিয়ে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মোল্লা ও সংশ্লিষ্ট ইজারাদার মনির হোসেন পৃথকভাবে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এসব মামলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক, রায়পুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ মার্চ উপজেলা প্রশাসন ২৪টি হাটবাজার ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে অনেকেই ইজারায় অংশ নেন। তবে অভিযোগ ওঠে, মীরগঞ্জ বাজারটি সরকারি খাস জমির পরিবর্তে মসজিদের জমিতে বসানো হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাজারটি ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭ লাখ এবং চলতি বছর ১৫ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। এতে রাজস্ব বৃদ্ধি পেলেও জমি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়।
অন্যদিকে, প্রায় দুই দশক ধরে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বসা মোল্লারহাট বাজারটি গত বছর স্থান পরিবর্তন করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও খাস জমির ওপর নেওয়া হয়। ২০২৫ সালে বাজারটি ৫৬ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও চলতি বছর তা বেড়ে ৮৫ লাখ টাকায় পৌঁছায়। এতে ইজারা প্রক্রিয়া ও জমি নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় প্রশাসন মোল্লারহাট বাজারের ইজারা বাতিল করে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, বাজারটি পুনরায় খাস জমিতে স্থানান্তর করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়া হোক।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন বাজার বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিকল্প স্থানে বসার সুযোগ না থাকায় অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, “পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই ইজারা দেওয়া হয়েছে। মীরগঞ্জ বাজারটি প্রতিবছর মসজিদের সামনেই বসে আসছে। তবে এবার মসজিদ কমিটি তাদের জমি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “নিয়ম মেনেই ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের নিচে ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। মসজিদ কমিটির সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা হবে। আপাতত মীরগঞ্জ বাজার বন্ধ রয়েছে এবং মোল্লারহাট বাজারে খাস কালেকশন চলছে। টোল নির্ধারণ করে প্রকাশ্যে টানিয়ে দেওয়া হবে, এর বাইরে আদায় হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত বাজার চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন অচলাবস্থা চলতে থাকলে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
