
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর মনির হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাছ ধরার বরশিতে আটকে থাকা অবস্থায় ঘটনাস্থলের অদূর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত মনির হোসেন আলেকজান্ডার বাজারের টুপি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া এলাকার ফকির বাড়ির বাসিন্দা এবং আব্দুর রবের ছেলে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আসলপাড়া লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামেন মনির হোসেন। একপর্যায়ে তিনি নদীতে ডুব দিলে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। এরপর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে নেমে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পরে ঘটনাস্থলের অদূরে কয়েকজন ব্যক্তি নদীতে মাছ ধরার জন্য বরশি ফেলেন। একপর্যায়ে তাঁদের বরশিতে মনির হোসেনের মরদেহ আটকে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রামগতি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নদী থেকে মনির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মনির হোসেন নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর একমাত্র ছেলে ছাব্বির হোসেন নদীর পাড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
রামগতি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার খোকন মজুমদার বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাছ ধরার বরশিতে মরদেহটি আটকে পড়েছিল।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
