রমযান মাস : কোরআন নাজিলের মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।রমযার মাস,আল কোরআন নাজিলের মাস। অধ্যায়ন ও তাকওয়ার মাস। এ মাস বলে দিবে কোনটি আলোর ও কোনটি অন্ধকারের পথ। এরশাদ হচ্ছে-‘হে ইমাদারগণ!তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পুর্ববতী নবীর উম্মতের উপর। আশা করা যায় তোমাদের মাঝে তাকওয়ার গুন ও বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হবে’। (সুরা বাকারা-১৮৩)। সিয়াম সাধনায় মুত্তকির গুন অর্জন হয়।আয়াতে কারীমায় সে কথাই নিশ্চিত করা হয়েছে। রোজা একটি ফরজ ইবাদত। ইহা পালন করা ফরজ। এখন প্রশ্ন তাকওয়া কি? তাকওয়া হচ্ছে,মহান আল্লাহ তাআলার নাফরমানি,অবাধ্যতা থেকে নিজেকে বেঁচে রাখা। অন্তরে আল্লাহ ভীতি জাগ্রত রাখা। যা মোমেন বান্দার জন্য একান্ত ভাবে কাম্য।

মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্ব শ্রেষ্ঠ্য জাতি হিসাবে পৃথিবীতে প্রেরন করেন।তারা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।পার্থক্যের মাপ কাটি হলো আল কোরআন। এরশাদ হচ্ছে- ‘রমযান মাস তো সে মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে। আর এ কোরআন হচ্ছে মানব জাতির জন্য পথের দিশা। মানুষের জন্য সত্য মিথ্যার পার্থক্য কারী’।(সুরা বাকারাহ-১৮৫)। মহান আল্লাহ তাআলা সব সহিফা এবং বড় বড় চারি খানা আসমানি কিতাব রমজান মাসে নাজিল করেন। পবিত্র হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে,‘হযরত ইব্রাহিম (আ) এর উপর সহিফা রমজানের ১লা তারিখে,হযরত মুসা (আ) এর উপর তাওরাত শরীফ রমজানের ৬ তারিখে,হযরত দাউদ (আ) এর উপন যাবুর শরীফ রমজানের ১২ তারিখে, হযরত ঈসা (আ) এর উপর ইজ্ঞিল শরীফ রমজানের ১৮ তারিখে এবং সব শেষ মহা গ্রন্থ আল কোরআন শরীফ বিশ^ নবী (দ) এর উপর রমযান মাসের কদরের রাতে নাজিল করা হয়েছে’।রমযান মাস,সত্য ও মিথ্যার পার্থকের মাস। যা আমাদের জন্য মহা নিয়ামত।মোমেন বান্দা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন.হে আল্লাহ,বাতিল ছেড়ে সত্য পথের দিশ দেখাও। এরশাদ হচ্ছে-‘হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে সরল সঠিক পথের দিশা দাও’। (সুরা ফাতিহা)্।বান্দাকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে আল্লাহ বলেন,‘আলিফ লাম মিম!এটা সেই কিতাব,তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এটি মুত্তাকি লোকদের পথ দেখাবে’।(সুরা বাকারা১-২)। মহান আল্লাহ তাআলা আল কোরআনের মাধ্যমে মুত্তাকিদের জন্য পুরুস্কার ঘোষনা করেন।এরশাদ হচ্ছে,‘নিশ্চয় যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং যারা সৎকর্ম পরায়ন,আল্লাহ তাদের সঙ্গে রয়েছেন’।‘নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকিদেরকে ভালোবাসেন’। ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পাপ মার্জন করবেন এবং তাকে দেবেন মহা পুরুস্কার’।‘যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারনাতীত উৎস থেকে জীবিকা দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’।‘যদি তোমরা ধৈর্য ধারন করো এবং আল্লাহকে ভয় করো। তাদের ষড় যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না’।‘যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করতো তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হবে,তার দরজা গুলো খুলে দেওয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদের বলবে,তোমাদের প্রতি সালাম এবং জান্নাতে প্রবেশ করো, স্থায়ী ভাবে অবস্থানের জন্য”। হাদীসে কুরসিতে আল্লাহ বলেন,‘রোজা আমার জন্য,আমি নিজে তার পুরুস্কার দিব’। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্নিত হযরত রাসুল (দ) বলেন, সিয়াম এবং কোরআন বান্দার জন্য কিয়ামতের দিবসে সুপারিশকারী হবে,সিয়াম বলবে,হে প্রভু আমি তাকে দিনের বেলা খাওয়া এবং প্রবৃত্তির তাড়না থেকে নিবৃত্ত রেখেছি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহন করুন। কোরআন বলবে,আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি,তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন,আল্লাহ বলবেন,তাদের সুপারিশ গ্রহন করা হলো’।‘যে রমজানের ইমান এবং এহতেসাবের সাথে সিয়াম পালন করবে,আল্লাহ তার পুর্বের গোনাহ মাফ করে দেবেন’।(বুখারী-মুসলিম)।

রোজা মানুষের পাপ রাশিেেক জ¦ালিয়ে পুড়ে খাটি মানুষ তৈরী করে। এ মাসে রাত জেগে আল কোরআন অধ্যায়ন ও তেলাওয়াত করে অসংখ্য নেকী অর্জন করা সম্ভব হয়। যা অন্য মাসে অসম্ভব। এ মাসে মোমেন বান্দা দিবা নিশি কোরআন অধ্যায়ন করে। এ কিতাবের জ্ঞান অর্জন করেন। যে জ্ঞান মানুষকে সরল সঠিক পথের কর্মসুচি নিদেশ করে। কোনটি জান্নাতের আর কোনটি জাহান্নামের পথ। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘আর এ কুরআন হচ্ছে মানব জাতির জন্য পথের দিশা। মানুষের জন্য হক-বাতিলে পার্থক্য কারী’। পবিত্র রমযান মাসে বেশী বেশী করে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা যায়। মানুষের কথা,বার্তা,আচার-আচরন,চাল-চলনে সত্য মিথ্যার প্রভাব পড়ে।তাছাড়া বেশী সওয়াব অর্জনের আশায় রোজার মাসে ইফতার মাহফিল,তারাবী,লাইলাতুল কদর ইত্যাদি পালন করে থাকি। অথচ মধ্যমনি আল কোরআন কে ভুলে আমরা আধুনিক সভ্যতা,সংস্কৃতিকে আকড়ে ধরেছি। যা দুনিয়ার জীবনে শেষ। পরকালের জন্য কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। মহান আল্লাহ তাআলা আল কোরআনের প্রতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার জন্য রোজা ফরজ করেন।একজন মোমিন বান্দা প্রতিদিন নামাজ,রোজা,যাকাত,হজ্জ ইত্যাদি ইবাদত করে থাকেন।এরশাদ হচ্ছে,‘নিশ্চয় নামাজ খারাপ ও অশ্লুীল কাজ থেকে বিরত রাখে’।অথাৎ নামাজ খারাপ কাজ থেকে বান্দাকে দুরে রাখে।প্রত্যেকটি ইবাদত বান্দাকে সঠিক পথ দেখান।কিন্তু আমরা,সঠিক পথের সন্ধ্যান পাচ্ছি না। আল কোরআন অধ্যায়ন ও রোজা পালনের মাধ্যমে মুত্তাকি হতে পারছি না।

মাহে রমযান বরকত,রহমত ও নাজাতের মাস। আল কোরআনের বিধি বিধান গুলো সংযোজন এবং নিষেধের বিধি বিধান সংকোচন করে জীবন পরিচালনা করা প্রয়োজন। হালাল,হারাম,ন্যায়-অন্যায়,সত্য-মিথ্যাসহ যাবতীয় বিধানাবলি যথাযথ ভাবে পালন করা হচ্ছে না। মোমিনের সংবিধান হলো আল কোরআন।রোজার তাকওয়া ব্যক্তি,পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। আল কোরআনের র্স্পশে ব্যক্তি,পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তন আনা সম্ভব। রমযার মাস,আল কোরআন নাজিলের মাস। এ মাস তাকওয়ার মাস।এরশাদ হচ্ছে-‘হে ইমাদারগণ!তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পুর্ববতী নবীর উম্মতের উপর। আশা করা যায় তোমাদের মাঝে তাকওয়ার গুন ও বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হবে’। (সুরা বাকারা-১৮৩)। রোজা একটি ফরজ ইবাদত।ইহা পালন করা ফরজ। এরশাদ হচ্ছে,‘ যাদের কাছে রোজার মাস উপস্থিত হবে,তারাই রোজা পালন করবে’।রোজাকে অস্বীকার বা অবহেলা কারী কাফের।একজন মুসলমানের ইমানী দায়ীত্ব হচ্ছে রমজান মাসে রোজা পালন করা। রোজা পালন করলেই তাকওয়ার গুন অর্জন করা না। তাকওয়া অর্জনের জন্য খোদা ভীতি,মহান আল্লাহ তাআলার নাফরমানি,অবাধ্যতা থেকে নিজেকে বেঁচে রাখ।অন্তরে আল্লাহ ভীতি জাগ্রত রাখা। যা মোমেন বান্দার জন্য একান্ত ভাবে কাম্য।

মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্ব শ্রেষ্ঠ্য জাতি হিসাবে পৃথিবীতে প্রেরন করেন। মানুষকে পরিচালনার জন্য মহা গ্রন্থ আল কোরআন নাজিল করেন। কোরআন হচ্ছে, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।পার্থক্যে পরিমাপের মাপ কাটি । এরশাদ হচ্ছে- ‘রমযান মাস তো সে মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে। আর এ কোরআন হচ্ছে মানব জাতির জন্য পথের দিশা। মানুষের জন্য সত্য মিথ্যার পার্থক্য কারী’।(সুরা বাকারাহ-১৮৫)। মহান আল্লাহ তাআলা সব সহিফা এবং বড় বড় চারি খানা আসমানি কিতাব রমজান মাসে নাজিল করেন। পবিত্র হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে,‘হযরত ইব্রাহিম (আ) এর উপর সহিফা রমজানের ১লা তারিখে,হযরত মুসা (আ) এর উপর তাওরাত শরীফ রমজানের ৬ তারিখে,হযরত দাউদ (আ) এর উপন যাবুর শরীফ রমজানের ১২ তারিখে, হযরত ঈসা (আ) এর উপর ইজ্ঞিল শরীফ রমজানের ১৮ তারিখে এবং সব শেষ মহা গ্রন্থ আল কোরআন শরীফ বিশ^ নবী (দ) এর উপর রমযান মাসের কদরের রাতে নাজিল করা হয়েছে’। প্রত্যেক বনি আদমের ভালো কাজের প্রতিদান দশগুন থেকে সাতশত গুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়।এরশাদ হচ্ছে,‘আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত রাসুল (দ) বলেছেন,বনী আদমের প্রত্যোক ভালো কাজের প্রতিদান দশগুন থেকে সাতশত গুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,তবে সওম ছাড়্ াযেহেতু তা কেমল আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।কেননা একজন সওমকারী তার প্রবৃত্তিকে আমার জন্য নিবৃদ্ধ রেখেছে এবং খানাপিনা থেকেও বিরত থেকেছে। রোজাদারের জন্য রয়েছে দু’টো মুহুত। ১.যখন সে ইফতার করে। ২. যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাত করেবে। রোজাদারের মুখের গন্ধ মহান আল্লাহর নিকট মিশকে আম্বরের চেয়েও অধিক সুগন্ধি যুক্ত। প্রকৃতপক্ষে সিয়াম ঢাল স্বরুপ। সুতুরায় তোমাদের কেউ যখন রোজার দিনে সওম রাখবে তখন যেন যৌন মিলন না করে,অশ্লীল বাক্যলাপও না করে। তবে যদি কেউ তোমাদের কোন রেজাদারের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয় বা ঝগড়া বাধিয়ে দেয়,তখন যেন বলে দেয় যে,আমি একজন রোজাদার’।(বুখারী)।

রমযান মাস, মোমেন বান্দার জন্য মহা নিয়ামত।তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন.হে আল্লাহ,বাতিল ছেড়ে সত্য পথের দিশা দেখাও। এরশাদ হচ্ছে-‘হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে সরল সঠিক পথের দিশা দাও’। (সুরা ফাতিহা)্।তার জবাবে আল্লাহ বলেন,‘আলিফ লাম মিম!এটা সেই কিতাব,তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এটি মুত্তাকি লোকদের পথ দেখাবে’।(সুরা বাকারা১-২)। মহান আল্লাহ তাআলা আল কোরআনের মাধ্যমে মুত্তাকি বান্দার পুরুস্কার ঘোষনা করেন।এরশাদ হচ্ছে,‘নিশ্চয় যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং যারা সৎকর্ম পরায়ন,আল্লাহ তাদের সঙ্গে রয়েছেন’।‘নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকিদেরকে ভালোবাসেন’। ‘যে আল্লাহকে ভয় করে,আল্লাহ তার পাপ মার্জন করবেন এবং তাকে দেবেন মহা পুরুস্কার’।‘যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারনাতীত উৎস থেকে জীবিকা দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’।‘যদি তোমরা ধৈর্য ধারন করো এবং আল্লাহকে ভয় করো। তাদের ষড় যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না’।‘যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করতো তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হবে,তার দরজা গুলো খুলে দেওয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদের বলবে,তোমাদের প্রতি সালাম এবং জান্নাতে প্রবেশ করো, স্থায়ী ভাবে অবস্থানের জন্য”। হাদীসে কুরসিতে আল্লাহ বলেন,‘রোজা আমার জন্য,আমি নিজে তার পুরুস্কার দিব’। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্নিত হযরত রাসুল (দ) বলেন, সিয়াম এবং কোরআন বান্দার জন্য কিয়ামতের দিবসে সুপারিশকারী হবে,সিয়াম বলবে,হে প্রভু আমি তাকে দিনের বেলা খাওয়া এবং প্রবৃত্তির তাড়না থেকে নিবৃত্ত রেখেছি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহন করুন। কোরআন বলবে,আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি,তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন,আল্লাহ বলবেন,তাদের সুপারিশ গ্রহন করা হলো’।‘যে রমজানের ইমান এবং এহতেসাবের সাথে সিয়াম পালন করবে,আল্লাহ তার পুর্বের গোনাহ মাফ করে দেবেন’।(বুখারী-মুসলিম)।

রোজা মানুষের পাপ রাশিেেক জ¦ালিয়ে একজন খাটি মানুষ হিসাবে তৈরী করে। রাত জেগে আল কোরআন তেলাওয়াত,আল্লাহর নিয়ামত ও অসংখ্য নেকী অর্জন করার মাস। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘আর এ কুরআন হচ্ছে মানব জাতির জন্য পথের দিশা। মানুষের জন্য হক-বাতিলে পার্থক্য কারী’। আধুনিক সভ্যতা,সংস্কৃতিকে আকড়ে ধরেছি। যা দুনিয়ার জীবনে শেষ। পরকালের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। আল্লাহ তাআলা কোরআনের প্রতিষ্ঠানিক রুপদানেবান্দার প্রতি রোজা ফরজ করেন। আমরা নামাজ,রোজা,যাকাত,হজ্জ ইত্যাদি ইবাদত করি।এরশাদ হচ্ছে,‘নিশ্চয় নামাজ খারাপ ও অশ্লুীল কাজ থেকে বিরত রাখে’। আমরা,সঠিক পথের সন্ধ্যান পাচ্ছি না। আল কোরআন অধ্যায়ন ও রোজা পালনের মাধ্যমে মুত্তাকি হতে পারছি না।আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত হযরত রাসুল (দ) বলেন,যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুয়ায়ী আমল বর্জন করতে পারে নি,তার খাওয়া ও পান করা পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজনে নেই। (বুখারী)। হযরত রাসুল (দ) বলেন,কত রোজাদার আছে,যাদের সওমের বিনিময়ে ক্ষুদা ছাড়া আর কিছুই জোটে না।(মসনদে আহমদ)।মোট কথা আমাদেরকে মিথ্যা কথা,গীবত,অপবাদ,পাপাচার,পরনিন্দা এবং অন্যায় কাজ কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। সওমের মাধ্যমে ক্ষমা পেতে হলে,সওম হতে হবে পাপমুক্ত। শুধু মাত্র পানাহার ত্যাগ আর গুনাহের কাজ না ছাড়লে কোন ভাবেই সওম পালন কওে মুক্তাকি হওয়া যাবে না।

মাহে রমযান বরকত,রহমত ও নাজাতের মাস। আমরা হালাল,হারাম,ন্যায়-অন্যায়,সত্য-মিথ্যাসহ যাবতীয় বিধানাবলি যথাযথ ভাবে পালন করি। বিশ^ নবী (দ) অন্ধকার যুগে জাহিলিয়াত,পাশবিকতা ও হিং¯্রতা,শিরক, পৌত্তলিকতা ও অমানবিকতায় ভরা অন্ধাকার সমাজকে দুর করে সোনালি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেন। সে সমাজে উদয়মান সুর্য্যরে দীপ্ত আলোয় বিশ^ হলো আলোকিত।বিশ^ নবী (দ) বলেন,‘সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হলো আমার যুগ’। এরশাদ হচ্ছে,‘আমি আকাশ পৃথিবী ও পর্ব্বত মালার সামনে এ আমানত(আল কোরআনের তথা খেলাফতের দায়ীত্ব)পেশ করলাম। কিন্তু তারা তা গ্রহন করতে প্রস্তুত হলো না। তারা ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু মানুষ তার স্কন্ধে তুলে নিল।’(সুরা আহযাব)। মহান আল্লাহ আরো বলেন,‘ইয়াসিন,জ্ঞান গর্বময় কোরআনের শপথ,তুমি অবশ্যই রাসুলদের একজন।নিঃসন্দেহে তুমি সরল পথের উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছ। পরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকেই কোরআন অবর্তীনা’।(সুরা ইয়াসিন)। আল কোরআনের জ¦লন্ত আগুন,মানুষকে পুড়িয়ে সোনার মানুষে পরিনত করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পুর্বে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা) বিশ^ নবী (দ) কে হত্যা করার জন্য ঝড়ের বেগে ছুটছে। কিন্তু আল কোরানের র্স্পশে ওমরের হৃদয়ে পরিবর্তন আসে। তারপর,তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হলেন।আসুন,আমরা রোজার তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ করি। আল কোরআনের জ্ঞানে নিজেকে আকড়ে ধরি। এই হোক সবার প্রত্যাশা।হিজরি বর্ষের নবম মাসটির নাম রমজানুল মুবারক। এ মাসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য বলার অপেক্ষা রাখে না। এ মাস আল্লাহ তাআলার অধিক থেকে অধিকতর নৈকট্য লাভের উত্তম সময়, পরকালীন পাথেয় অর্জনের উৎকৃষ্ট মৌসুম। ইবাদত-বন্দেগি, যিকির-আযকার এবং তাযকিয়া ও আত্মশুদ্ধির ভরা বসন্ত। মুমিন বান্দার জন্য রমজান মাস আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিআমত। তিনি এই মাসের প্রতিটি দিবস-রজনীতে দান করেছেন মুষলধারা বৃষ্টির মতো অশেষ খায়ের-বরকত এবং অফুরন্ত কল্যাণ। মুমিনের কর্তব্য, এই মহা নিআমতের জন্য কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত হওয়া এবং এর কদর করা।

এ মাসে বান্দা পার্থিব সকল চাহিদা বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভ করবে, অতীতের সকল পাপাচার থেকে ক্ষমা চেয়ে নতুনভাবে ঈমানী জিন্দেগির উত্তাপ গ্রহণ করবে, তাকওয়ার অনুশীলনের মাধ্যমে পুরো বছরের ইবাদত ও ইতাআতের শক্তি সঞ্চয় করবে, চিন্তা-চেতনা ও কর্ম-সাধনায় আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সমর্পিত করবেÑ এই হচ্ছে মুমিনের আনন্দ।

তবুও কোরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াতে এবং হাদীস শরীফের বিস্তৃত বর্ণনায় রমজান মাসের যে গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, তার কিছু দৃষ্টান্ত এখানে উল্লেখ করার চেষ্টা করব। এরপর পেশ করব এ মাসের প্রধান আমল সিয়াম বা রোজা সম্পর্কে কোরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফের কিছু নির্দেশনা।

মুসলিম উম্মাহর নিকট রমজান মাসের আগমন ঘটে প্রধানত রোজা ও তারাবীহ’র বার্তা নিয়ে। এটি রমজান মাসের বিশেষ আমল। তাই প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য, পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে এ দুই বিষয়ে যত্নবান হওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন : হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি; যাতে তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বনকারী (মুত্তাকী) হতে পার। (সূরা বাকারা : ১৮৩)।

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন : যখন রমজান মাসের আগমন ঘটল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন, তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এ মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শিকলে বন্দি করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে তো প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত। (মুসনাদে আহমদ : ৭১৪৮)।

রমাজানুল মুবারকের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তা কোরআন নাযিলের মাস। এই পবিত্র মাসেই আল্লাহ তাআলা পূর্ণ কোরআন মাজীদ লওহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ করেন। অতপর রাসূলে কারীম (সা.) এর নিকট কোরআনের সর্বপ্রথম অহীও এ মাসেই নাযিল হয়। ইরশাদ হয়েছে : রমজান মাস, যাতে কোরআন নাযিল হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সুপথ প্রাপ্তির সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর হক্ব-বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন অবশ্যই এর রোজা রাখে। (সূরা বাকারা : ১৮৫)।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তাআলার শপথ! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গণীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমাদ : ৮৩৬৮)।বহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে মাহে রমজান চলছে, আলহামদুলিল্লাহ। মুসলিম জাতি এ মাসে নিজেদের আত্মশুদ্ধি অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে সামাজিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি রক্ষায় মাহে রমজানের ভূমিকা এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যাতে কেউ এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে নস্যাত করে দিতে না পারে, এজন্য আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। এক্ষেত্রে মাহে রমজানের শিক্ষা ও মূল্যবোধ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করি।

মাহে রমজান তাকওয়া (আত্মসংযম), সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। এই মাসে মুসলমানরা সিয়াম পালনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের চর্চা করেন। এ সময় ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই একই কাতারে দাঁড়ান, যা সামাজিক সমতা ও সম্প্রীতির প্রতীক। বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল মুসলিম প্রধান দেশে রমজানের ত্যাগের শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত যৌক্তিক ও সমাজের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাহে রমজান উপলক্ষ্যে দেশবাসীর উদ্দেশে বাণী দিয়েছেন। তিনি সবাইকে মাহে রমজানের মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তার বাণীতে তিনি সামাজিক নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের কথা উল্লেখ করেছেন।

তার ভাষায় ‘ধনী-গরিব সবার মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বোধ প্রতিষ্ঠায় আসুন, পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগ-বিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ, উশৃঙ্খলতা ও সংঘাত পরিহার করি; জীবনের সর্বস্তরে পরিমিতিবোধ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে শান্তিপ্রিয় জাতি গঠনে রমজানের শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত। সামাজিক বৈষম্য দূর করে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের দুর্নীতির যে বদনাম আমাদের রয়েছে, তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে আসুন সবাই মিলে কাজ করি এবং দেশটাকে ভালবাসি।

এ মাস কোরআন নাজিলের মাস। কোরআনে মানবজাতির ব্যক্তি, সমাজ ও সমগ্র জাতি পরিচালনার চমৎকার নীতি পদ্ধতি ও আইনি সব বিধি বিধান রয়েছে। আসুন, বুঝুন এবং কোরআনের আলোকে জীবন গড়ুন। মাহে রমজান উপলক্ষে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে খাবার-দাবার ও পোশাক-আশাকসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যে ৫০ ভাগ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মুসলিম ব্যবসায়ীদের এখনো এই ব্যাপারে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা গড়ে ওঠেনি। আমাদের এই মানসিকতার পরিবর্তন কবে হবে?

পবিত্র আল কোরআনের মাধ্যমে রাসুল (সা.) এবং পরবর্তীকালে খুলাফায়ে রাশেদাসহ সব মুসলিম শাসকগণ খেলাফত আলা মানহাজিন নবুয়ত।-এর মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ ও আত্মকেন্দ্রিক শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার ছোঁয়া লেগে থাকত। আজকে মুসলমানদের নৈতিক ব্যর্থতার কারণে আন্তর্জাতিক পরিম-লে সাধারণভাবে মুসলিম বিশ্বে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন ওঠে নারী অধিকার, বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসীদের সঙ্গে হিংসাত্মক আচরণের। অথচ নারী জাতির মুক্তির এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে ইসলাম। আর আজকের ইহুদি জাতিকে ওসমানয়িরা নিরাপত্তা না দিলে স্পেন ও জার্মানিতে যেভাবে ইহুদিকে নিধন করা হয়েছে, এখন তাদের কোনো নাম-নিশানাই থাকত না। মদিনার সমাজ ও মক্কা বিজয়ের পর কারো ওপর বিশ্বাসের কারণে অত্যাচারের কোনো রেকর্ড নেই। বর্তমানে অবৈধ সম্পদ বানানো, সামাজিক বৈষম্য, দুর্নীতি, অবৈধ ক্ষমতার চর্চাসহ এমন কোনো অভিযোগ নেই, যা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ওঠে না। সব অভিযোগ আমলে না নিলেও নৈতিকতার মানদ-ে আমরা জাতি হিসেবে অনেকটা পিছিয়ে, একথা বলতেই হবে।

হযরত আবু বকর, ওমর, আলি ও ওসমান (রা.)-এর অনুসারী! আদর্শ জাতির ও ধর্মের অনুসারী হয়ে আমাদের এ বিচ্যুতির কারণ আর কিছুই নয়, মূলত কোরআনের সঠিক শিক্ষা থেকে আমরা দূরে সরে গেছি। কোরআনকে যথাযথভাবে জীবনে ও সমাজে বাস্তবায়নের পথকে বাঁকা করে ফেলেছি। যার ফলে সমাজে এত বৈষম্য। মানবিকতার আকাল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র সময় মাহে রমজান ও আল কোরআন। সংযমের শিক্ষার মাধ্যমে কোরআনের মূল শিক্ষাকে নিজের মধ্যে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব। ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার পরিম-ল থাকলেই রক্ষক কখনো ভক্ষক হতে পারবে না। কেননা দুর্নীতি করে জনগণের ক্ষমতা ও সম্পদ কুক্ষিগত করে দুনিয়ার আদালতে ছল-চাতুরীর মাধ্যমে মুক্তি পেলেও আল্লাহর দরবারে কোনো ইনজাস্টিস হবে না তখন অবৈধ এ সম্পদের হিসাব পাই পাই করে দিতে হবে। এ চেতনা হৃদয়ে ধারণ করলেই দুর্নীতিমুক্ত মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব। সত্যিকার অর্থে পবিত্র রমজানকে আমরা ব্যক্তি ও সমাজের এ দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তির মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করতে পারি। তা না হলে সাহরি, ইফতার, তারাবিসহ দান-খয়রাতের সব আয়োজন বিফলে যাওয়ার আশঙ্কাই প্রবল। সুরা বাকারার ১৮৩ থেকে ১৮৬ নম্বর আয়াতে এ বিষয়গুলো স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে।আল কুরআনের ৯৭তম সূরাটির নাম সূরা আল্ কদর। এ সূরাটি মক্কায় নাযিল হয়েছে এবং এতে ৫টি আয়াত রয়েছে। নিম্নে আমরা এই ৫টি আয়াতের অর্থ ও মর্ম সহৃদয় পাঠক ও পাঠিকাগণের সামনে উপস্থাপন করতে প্রয়াস পাব। মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে তওফিকে রাফীক এনায়েত করুন, আমীন! (ক) সূরাটির বঙ্গানুবাদ এই : “নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে, আর আপনাকে কিসে অবহিত করবে লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে রাতে ফিরিশতাগণ ও রুহ তাদের রবের অনুমতি ক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে নাযিল হয়। শান্তিময় সে রাত ফযরের আবির্ভাব পর্যন্ত।”

(খ) মর্ম কথা : ১. কদর শব্দের এক অর্থ মাহাত্ম্য ও সম্মান। এর মাহাত্ম্য ও সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল কদর তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়েছে। কদর শব্দের আরেক অর্থ তাকদীর এবং আদেশ। এ রাত্রিতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত ও বিধি এবং লিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফিরিশতাগণের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিযিক, বৃষ্টি ইত্যাদির পরিমাণ নির্ধারিত ফিরিশতাগণকে লিখে দেয়া হয়। (তাফসীরে সা’দী)।

আল কুরআনের অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে : এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ের ফায়সালা করা হয়। (সূরা আদ্ দুখান : আয়াত ৪)। এ আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই পবিত্র রাতে তাকদীর সংক্রান্ত সকল ফায়সালা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাত্রিতে তাকদীর সংক্রান্ত বিষয়াদি নিষ্পন্ন হওয়ার অর্থ হলো এ বছর যে সকল বিষয় প্রয়োগ করা হবে, সেগুলো লাওহে মাহফুয থেকে চয়ন করে ফিরিশতাগণের কাছে সোপর্দ করা হয়। আদতে আসল বিধিলিপি আদিকালেই লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। (ইমাম নবভী (রহ.) : শারহু সহীহ মুসলিম : ৮/৫৭)

(গ) মর্ম কথা : ২. এখানে ইরশাদ হয়েছে যে, ‘‘আমি কদরের রাতে আল কুরআন নাযিল করেছি। আবার অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে : রমযান মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে।” (সূরা আল্ বাকারাহ : আয়াত ১৮৫)। এ থেকে জানা যায় নূর নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে হেরা গুহায় যে রাতে আল্লাহর ফিরিশতা ওহী নিয়ে এসেছিলেন, সেটি ছিল রমযান মাসের একটি রাত। এই রাতকে এখানে কদরের রাত বলা হয়েছে। আবার সূরা দোখানে এটাকে মুবারক রাত বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে : “নিশ্চয় আমি একে (আল কুরআন) একটি বরকতপূর্ণ রাতে নাযিল করেছি।” (সূরা আদ’দুখান : আয়াত ৩)। এ আয়াত থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, আল কুরআন লাইলাতুল কদরে নাযিল হয়েছে।