মফস্বলে প্রথিতযশা ও মানবিক সাংবাদিক খালেদ মাহমুদ ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ years ago

তারেক হোসেন, রামগঞ্জ(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ

২৩ বছর ধরে মাঠের তৃণমূল থেকে সাংবাদিকতা পেশায় একনিষ্ঠ কলম সৈনিক খালেদ মাহমুদ ফারুক। প্রথিতযশা ও মানবিক সাংবাদিক, সৎ এবং সাহসী সত্য প্রকাশে নির্ভিক কলম সৈনিক হিসাবে যিনি কাজ করে চলছেন অদ্যাবধি। তিনি আমার লক্ষ্মীপুর ২৪ ডট কমের সম্পাদক। কাজ করেছেন দৈনিক নয়া দিগন্তসহ জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং টিভি মিডিয়ায়। বর্তমানে ইংরেজী দৈনিক ডেইলী নিউ এজের লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি, ইউএস বাংলা গ্রুপের দৈনিক আজকের পত্রিকার রামগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি যিনি রামগঞ্জের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতা সংগঠন রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। যার হাত ধরে উপজেলার আনাছে কানাছে গড়ে উঠেছে প্রায় ৬৫টি রক্তদাতা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ঐক্য ফোরামের আহবায়ক হিসাবেও বিগত কয়েক বছর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে।
সাংবাদিকতা পেশায় তিনি রেখে চলেছেন অগ্রণী ভূমিকা। যেখানে অন্যায়, অত্যাচার, অপরাধ, দুর্নীতি, দুঃশাসন সেখানেই নির্ভীক, সাহসী, এ সাংবাদিকের প্রতিবাদি পদচারণা। যে কোনো পরিস্থিতে তিনি তুলে নিয়ে আসেন ঘটনার অন্তরালের মূল ঘটনা।
অপরাধ ও অপরাধী যত গভীরেই থাকুক না কেন, সেখান থেকেই তিনি তার কৌশলী, একনিষ্ঠ কর্মদক্ষতায় টেনে বের করেন লুকানো তথ্যবহুল ঘটনা। দুষ্ট লোকের মন্দ কাজের সকল আমলনামা। তুলে ধরেন দেশ ও জাতীর সম্মুখে।
অত্যান্ত সাদামাটা, হাস্যেজ্জল এবং সহজ সরল জীবনযাপনের অধিকারী ও অন্যায়ের সাথে কখনোই আপস না করে যিনি সততার সাথে কাজ করে যা”েছন, তিনি সত্যের সন্ধানে নির্ভীক প্রথিতযশা সাংবাদিক খালেদ মাহমুদ ফারুক।
এ সময়ের প্রতিবাদী এবং উপজেলাব্যাপী আলোচিত প্রিয়মুখ সিনিয়র সাংবাদিক খালেদ মাহমুদ ফারুক। যিনি বর্তমানে রামগঞ্জ প্রেস ক্লাবের বর্তমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দুই দুই বারের নির্বাচিত সভাপতি এ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোন আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নেই কোন অভিযোগ। সহকর্মীদের সাথে যার রয়েছে হৃদয়ের সম্পর্ক।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মানবসেবায় রেখে চলছেন অনন্য দৃষ্টান্ত।
২০১৫ ইং সন থেকে রামগঞ্জ ব্লাড ডোনারস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা হয়ে অত্র সংগঠনের সদস্য, শুভাকাঙ্খি ও রক্তদাতাদের সার্বিক সহযোগিতায় বিনামূল্যে প্রায় ৭ হাজার ব্যাগ রক্তদান করেছেন বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে। নিজেও রক্তদান করেছেন ২৫ বারের মতো। রামগঞ্জ, রায়পুর, রামগতি, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর, ফরিদগঞ্জ, চাটখিল, নোয়াখালী, হাজীগঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশের অসংখ্য অসুস্থ্য দুস্থ্য ও গরীব রোগীসহ রক্তগ্রহীতাদের রক্তদান চলমান রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা, লাশ দাফন এবং লাশ দাফন টীমের সুরক্ষায় পিপিই, স্যানেটাইজার, মাস্ক বিতরণসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অক্সিজেন সেবা এখনো অব্যাহত রয়েছে। যা নিঃসেন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। মানবিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসকগণ রয়েছেন রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাবের উপদেষ্টা হিসাবে। যাদের বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়েই তার অগ্রযাত্রা করেছে আরো মসৃণ।
খালেদ মাহমুদ ফারুক ১৯৯৪/৯৫ ইং সন থেকে গল্প, কবিতা, ছড়া লেখা শুরু করেন রামগঞ্জ উপজেলার তখনকার সময়ের একমাত্র আলোচিত সাপ্তাহিক পত্রিকা রামগঞ্জ বার্তায়। উক্ত পত্রিকায় সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন, আরেক সাদামাটা, নির্লোভ ও সৎ সাংবাদিক আবু ছায়েদ মোহন। যার হাত ধরে সাংবাদিকতা পেশায় যার উত্থান, তিনি খালেদ মাহমুদ ফারুক।
সাংবাদিক খালেদ মাহমুদ ফারুক বলেন, অস্বীকার করার জো নেই বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানান অঘটন। যে কোন দফতর বা সংগঠনের গুটি কয়েক কর্তাব্যক্তি দেশের সম্পদ লুটে নিচ্ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, সামাজিক ও পারিবারিক অপরাধ বেড়েছে বহুগুন। জমি সংক্রান্ত বিরোধে আপন ভাইদের মধ্যে ঘটছে খুনখারাবি। বেড়েছে কিশোর অপরাধ। তুচ্ছ ঘটনায় ঝগড়ায় লিপ্ত হচ্ছে মানুষ, সংঘর্ষের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন। আরেকজনের ক্ষতি করে বা দাবিয়ে রাখার চেষ্টায় মানুষ এক ধরনের নোংলা প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর থেকে পরিত্রান পেতে হবে। এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কমাতে বা এড়াতে কলমের লেখনি শক্তি এবং সচেতনতার বিকল্প নেই। যথাযথ প্রতিবেদন সংবাদপত্রে প্রকাশের কারণে অপরাধ প্রবণতা কমে। মফস্বলের সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা নিজ নিজ এলাকার অবহেলিত, অনুন্নত, উন্নয়ন বঞ্চিত জনপদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। প্রতিবন্ধকতাও কম নয়। দুষ্টু লোকের নোংরা রাজনীতির শিকার হতে হয় অনেক সাংবাদিককে। আবার একই পেশার হাতেগোনা কয়েকজন অর্থলোভে জড়িয়ে পড়ে অর্থনৈতিক নোংরা কাজে।


বর্তমানে সাংবাদিকদের কাউকে কাউকে মানুষ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে সাংঘাতিক, হলুদ সাংবাদিক, ফেসবুক সাংবাদিক, চাঁদাবাজ সাংবাদিক, সিন্ডিকেট সাংবাদিক, বিজ্ঞাপন সাংবাদিক, রাজনৈতিক সাংবাদিক, অতি উৎসাহী সাংবাদিক, গলাবাজ সাংবাদিক, এমনি এমনি সাংবাদিক, ক্রেডিট পরিবর্তন সাংবাদিক ইত্যাদি ভাষায় নোংরাভাবে ভূষিত করে। সঠিক প্রশিক্ষণ, পেশাদারিত্বের অভাবে যা বেড়েই চলছে। আমরা এ পরিস্থিতির বদল চাই। আমরা চাই, সাংবাদিকতার আড়ালে তথ্য বানিজ্যের বদলে তা তথ্য সেবায় নিবেদিত হোক। তাহলে সমাজ পরিবর্তন হবেই ইনশাল্লাহ।