বীরগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় এ বছর ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে উপজেলার ভোগনগর, মোহাম্মদপুর পলাশবাড়ী ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষে সাড়া ফেলেছে। এ উপজেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ধান আলুসহ অন্যান্য সবজির পাশাপাশি ভুট্টা চাষে মনোযোগ দিয়েছেন কৃষকরা। মাঠে মাঠে ভুট্টার ফুলে বাতাসে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের রাজ্য খ্যাত বীরগঞ্জ উপজেলায় এবার চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনে আশাবাদী কৃষকরা। ধান চাষের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে স্বল্প খরচ এবং অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষক ঝুঁকছেন ভুট্টা চাষে। অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশা করছেন তারা।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,গত বছরের তুলনায় ভুট্টা চাষ বেশি হয়েছে। বাম্পার ফলনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রত্যাশিত ফসল পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।

চলতি রবি মৌসুমে ভুট্টার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২১৬৮ হেক্টর। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তা ছাড়িয়ে এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে  ১১৮০৫ হেক্টর। গত বছর প্রতি হেক্টর জমিতে খরচ ধরা হয়েছিল ১লাখ ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, প্রতিকেজি ২৩ টাকা হিসেবে ৯শত’ ২০ টাকা মণ বিক্রি করেছে কৃষক। এবছর ফলন প্রতি হেক্টরে ৩৮০ মণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কম খরেচে অল্প সময়ের মধ্যে অধিক মুনাফা অর্জনকারী ফসল হওয়ায় কৃষক আমন এবং আলু তোলার পর রবি মৌসুমে ভুট্টা লাগাতে বেশ ঝুঁকে পড়েছে। এতে কৃষক অতি সহজেই তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার মধ্যে রয়েছে, পাইওনিয়ার ৩৩৫৫, এনকে ৪০, ৯৮৪, ৩৩৯, ২২৪, কৃষান, করস ইত্যাদি।

 আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রত্যাশিত ফসল পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। চাষিরা জানান, ধান, গম ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষ লাভজনক হওয়ায় বিকল্প ফসল হিসেবে এ চাষের দিকেই তাদের ঝোঁক বেশি। ভুট্টা চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগও বলছে, ভুট্টা একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। খাদ্য চাহিদা মেটাতে গমের বিকল্প হিসেবে মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি মাছ, হাঁস-মুরগি ও গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার দিন-দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এর চাহিদাও

বেড়েছে। ভুট্টা গাছের পাতা সুষম গো-খাদ্য এবং কান্ড জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষক এখন অল্পসময় এবং খরচে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অন্য ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেকেই ভুট্টার দিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কৃষক মো: ফারুক মাষ্টার তিনি বলেন, জমিতে পানি ও সেচ কম লাগে এবং ফলনও গমসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি হয় বলে ভুট্টার চাষ করেছেন। বেশ ভালো ফলন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমি আলু আবাদ শেষ করে ১০ হেক্টর জমিতে রবি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টা আবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছি। বর্তমানে ভুট্টা ক্ষেতের গাছ বেশ ভাল হয়েছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হতে পারে। কৃষক খলিল বলেন, ধান কাটার পর আমি দুই বিঘা জমিতে

ভুট্টার আবাদ করেছি। আশা করি ভালো ফলন হবে।

 বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম বলেন,এবছর উপজেলায় ভুট্টার আবাদ ভালো হয়েছে। বড় রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।