
বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে র্যালি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, র্যালিতে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে গড়ায়। পরে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আশিক আহমেদ অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে লাঠির সঙ্গে পতাকা বেঁধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। বহিরাগতদের ছাড়া কর্মসূচি পালনের জন্য শিবিরের নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করা হলে তাঁরা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেন। এতে ছাত্রদলের পাঁচ থেকে ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে উপাচার্যের গেটের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে তাঁদের প্রায় পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
জাকারিয়া ইসলাম বাবু আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলা থামেনি। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) বেলাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা শুনে পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
