বড়াইগ্রাম কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ: প্রকল্পের বরাদ্দে নয়-ছয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৬ দিন আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর | নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির বরাদ্দ বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

অভিযোগের ফিরিস্তি স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ‘কৃষি পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘পার্টনার কংগ্রেসের’ জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। ১০০ জন অংশগ্রহণকারীর বিপরীতে বাস্তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া মাস্টাররোলে হাজিরা দেখিয়ে অংশগ্রহণকারীদের নিম্নমানের খাবার, নোটবুক ও ক্যাপ দেওয়া হয়েছে এবং বরাদ্দের অর্ধেক টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের জন্য নির্ধারিত জৈব সার (গোবর সার) সরবরাহের কথা থাকলেও সেখানে ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত মাটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ছুটির দিনে গোপনে সেসব সরিয়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে, কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য বাঁশের খুঁটি কিনতে প্রতিটির বিপরীতে ৫০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে নিম্নমানের ও কম মূল্যের খুঁটি।

কৃষকদের অভিযোগ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্লক প্রদর্শনী বাস্তবায়ন না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া সবজি প্রণোদনা কর্মসূচির কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও তা যথাসময়ে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। সরকারি নিয়ম অমান্য করে অফিসিয়াল গাড়ি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পাবনার আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলায় নিয়মিত যাতায়াতে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

কৃষকদের ক্ষোভ কুন্ডুপাড়া এলাকার কৃষক আবু তায়েব বলেন, “সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রকৃত কৃষকরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি অফিসের অনিয়ম দীর্ঘদিনের। আমরা এসবের বিহিত চাই।” মানিকপুর এলাকার কৃষক আব্দুস সালামও এসব অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ প্রথমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানালেও পরে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, “কিছু কার্যক্রম মৌসুমভিত্তিক হওয়ায় জুনের আগেই বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করে রাখতে হয়। তবে গোবর সার বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “কিছু অভিযোগ কৃষি বিভাগের নিজস্ব প্রশাসনিক বিষয়। তবে গোবর সারের পরিবর্তে নিম্নমানের সার সরবরাহের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে দ্বিতীয় দফায় যাচাই করা হয়েছে। গোবর সার ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আমার জানা আছে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত বীজ প্রণোদনা খুব শিগগিরই বিতরণ করা হবে। আমরা সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”