
চাঁদপুর প্রতিনিধি | শাহরাস্তি : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদীঘী মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২১ সালে এ ঘটনা ঘটলেও চার বছর পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে ভোলদীঘী মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতি। দীর্ঘ এক যুগ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও ২০২১ সালে এসে হঠাৎ করেই কার্যক্রম থমকে যায়। ওই সময় সাড়ে ৩ শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, গ্রামে ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় নিরাপদ ভেবে এই সমিতিতে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু টাকা ফেরত চাইতে গেলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং এক পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে যান।
ভোলদীঘী গ্রামের ভুক্তভোগী জাকির হোসেন বলেন, “আমি আমার পরিবারের ২১ লাখ টাকা সঞ্চয় করে এখানে রেখেছিলাম। টাকা চাইতে গেলে দেই-দিচ্ছি বলে একসময় তারা উধাও হয়ে যায়।”
একই অভিযোগ করেন পাটোয়ারী বাড়ির আব্দুল হক, খাদিজা বেগম ও জাহানারা বেগমসহ একাধিক গ্রাহক। তারা জানান, জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সমিতির সভাপতি দুলাল পাটোয়ারী বলেন, “বিল্লাল হোসেন পালিয়ে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা আমার বিরুদ্ধে আদালতে চারটি মামলা করেছেন। এর মধ্যে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। আর সমিতির টাকা নিয়ে আত্মগোপনের ঘটনায় বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন আছে। তিনি ফিরে না এলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।”
এদিকে সমবায় সমিতিটি উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে নিবন্ধিত হলেও এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মোতালেব খান বলেন, “কয়েক বছর আগে সমিতিটি সরকারের তালিকায় অকার্যকর হিসেবে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
