
সিরাজুল ইসলাম শ্যামনগর সাতক্ষীরা প্রতিনিধ
সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলের নদীবেষ্টিত শ্যামনগর উপজেলায় গাবুরা ইউনিয়নে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ মেগা প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে বাঁধ নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়া, এলাকার মানুষকে শ্রমিকের কাজে না নেয়া ও কাজের ধীর গতি নিয়ে প্রশ্ন এলাকাবাসীর। তবে জেলা প্রশাসক জানান, মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তবে কাজে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।
গাবুরা ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে নদী বেষ্টিত দ্বীপ গাবুরার চারপাশে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে সে কাজ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ২০২১ সালের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া কাজটি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ঠিকাদারদের কাজ শুরু বিলম্ব কাজে এসে সাইডে নানান জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হচ্ছে না সে কারণে ঠিকাদাররা মন্ত্রণালয় থেকে আরও দুই বছর সময় নিয়েছে যদিও এখন পর্যন্ত কাজটির মাত্র ৩৯ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালি ভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলে এবং পাথর, বালি ও সিমেন্ট জমিয়ে সিসি ব্লক তৈরি করে নদীর পাশে বসিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে টেকসই ভেড়িবাঁধ।
প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আইলা, সিডর, বুলবুল, আম্পান ফোনী ও ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে ভেড়িবাঁধ ভেঙে এ ইউনিয়নের মানুষের জান, মাল, ফসলি জমি ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বারবার।
এলাকাবাসী জানায়, ভেড়িবাঁধটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জান, মাল ফসলি জমি, মাছের ঘের এবং পশু-পাখির ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না। ছাড়তে হবে না জন্মভিটা, বসতবাড়ি। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
তবে বাঁধ নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়া, এলাকার মানুষকে শ্রমিকের কাজে না নেয়া ও কাজের ধীর গতি নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম ভিটাবাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর ক্ষতিপূরণের সঙ্গে সঙ্গে মেগা প্রকল্পের এ কাজের মূল্যায়নে সম্পৃক্ত করার দাবি জানান।
জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে উল্লেখ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দীন বলেন, ‘টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ দেখে নেয়ার জন্য হেড অফিসের একটি টাস্কফোর্স রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা শুধুমাত্র জরুরি কাজ করতে গঠিত কমিটিতে থাকতে পারেন। আর বরাদ্দের কারণে কাজে কিছুটা ধীর গতি রয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সরকারের মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তবে কাজে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, এক হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চারপাশে সাড়ে ২১ কিলোমিটার স্থায়ী ভেড়িবাঁধ, ৮ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ, ৫টি পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো ও ৮টি খাল খনন কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কাজের ধীর গতির কথা জানতে চাইলে সাতক্ষীরা নির্বাহী প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন গাবুরা ইউনিয়নে মেগা প্রকল্পে ৪৮ টি প্যাকেজ রয়েছে সব প্যাকেজে ঠিকাদাররা ভিন্ন ভিন্ন সব ঠিকাদাররা একসাথে কাজ করতে আসেনি পরপর এসেছে অনেক ঠিকাদারদের মাটির সংকট অনেকের জমির সংকট অনেকের বালির সংকট অনেকের ডাম্পিং য়ে বিলম্ব নানা জটিলতার কারণে কাজটি শেষ নামাতে একটু হবে তারপরেও আমরা ঠিকাদারদের প্রতিনিয়ত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দিচ্ছি, এদিকে ২৮শে ফেব্রুয়ারি গাবু রার মেগা প্রকল্পের 15 নম্বর পার্লারে সকালে ১১ টায় এক গন শুনানি অনুষ্ঠিত হয় সাতক্ষীরা নির্বাহী প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতি উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম আরো উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা উপসহকারী প্রকৌশলী প্রিন্স রেজা। উপসহকারী প্রকৌশলী রমিত হোসেন উপসহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলী শুভ্র চন্দ্র মন্ডল এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সুশীল সমাজ সুধীমহল সহ এলাকাবাসী গণ শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন এবং মেগা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
