ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ মাস আগে

লক্ষ্মীপুর পুরাতন বাস স্টেশনে ফুট ওভার ব্রিজের দাবি

কবির হোসেন রাকিব, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকার ব্যস্ত সড়ক পার হতে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে পথচারীদের। ফুট ওভার ব্রিজ কিংবা নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। পুরাতন বাস স্টেশনের আশপাশে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সকাল ও দুপুরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় এলাকায় তীব্র যানচাপ তৈরি হয়। তখন রাস্তা পার হতে গিয়ে অনেককে দ্রুতগতির যানবাহনের ফাঁক গলে চলাচল করতে দেখা যায়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত এই সড়কে যানবাহনের চাপ প্রায় সারাক্ষণই থাকে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও নিরাপদে পার হতে পারছেন না। অনেক সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থীকে অভিভাবকদের হাত ধরে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকটি দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, “এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ রাস্তা পার হয়। ফুট ওভার ব্রিজ না থাকায় সবাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এক কলেজছাত্র বলেন, “স্কুল-কলেজ ছুটির সময় রাস্তা পার হওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়। গাড়িগুলো দ্রুত চলে। অনেক সময় মাঝরাস্তায় আটকে যেতে হয়।”

পথচারীদের পাশাপাশি যানবাহনের চালকেরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। যত্রতত্র পারাপারের কারণে প্রায়ই যানবাহন থামাতে হচ্ছে, এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি যানজটও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকা দুঃখজনক। দ্রুত একটি আধুনিক ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।