জায়গা বিরোধে ধর্মপাশায় সংঘর্ষ, পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ মাস আগে

সাইফ উল্লাহ : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশাগঞ্জ বাজারের একটি বাণিজ্যিক জায়গার মালিকানা নিয়ে সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া এবং উত্তরবীর গ্রামের আনার মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উভয় পক্ষই ক্রয়সূত্রে ওই জায়গার অংশবিশেষের মালিকানা দাবি করে আসছেন। বিরোধপূর্ণ স্থানে উভয় পক্ষের দোকান ও ভাড়াটিয়াও রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে আনার মিয়া তাঁর লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ স্থানে থাকা দুটি দোকানের মধ্যবর্তী দেয়াল ভেঙে ফেলেন। এ খবর পেয়ে সোনা মিয়ার সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া, লিটন মিয়া, নুরুল হুদা, ওয়াহিদ, আনোয়ার তালুকদার, আনার মিয়া, পারভেজ, নির্মল, আরফিন এবং স্থানীয় সংবাদকর্মী মিঠু মিয়াসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আহত তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে তিনি ও অপর একজন ব্যক্তি ক্রয়সূত্রে জায়গাটি কিনেছিলেন। পরে ২০২০ সালে আনার মিয়া জায়গাটির একটি অংশ কিনে মালিকানা দাবি করে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় তাঁর দোকানের তালা ভেঙে নগদ দুই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, আনার মিয়া পুলিশের হেফাজতে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদকর্মী মিঠু মিয়া বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আমিও আহত হই।”

পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সময় উভয় পক্ষের কিছু লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্য মো. গাজিউল, বিপ্লব ও সেলিম আহত হন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন উত্তরবীর গ্রামের আনার মিয়া, রাজাপুর গ্রামের শ্যামল, আরফিন ও পারভেজ মিয়া।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদ উল্ল্যা বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ ও ঘটনার সার্বিক দিক বিবেচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) এস এম ফজলে রাব্বী রাজিব বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক ব্যক্তিদের নিয়ে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”