জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে ২ কোটি শিশুর ভবিষ্যৎ  

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

 উপকূলীয় জেলা ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে; ইউনিসেফ জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।  

সিরাজুল ইসলাম :বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শিশুদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। ইউনিসেফের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদী ভাঙন ও খরার মতো পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২ কোটি শিশু সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ২০টি জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, কক্সবাজার, নোয়াখালী, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা ঘূর্ণিঝড়ের, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ বন্যার, রাজশাহী ও নিলফামারী খরার, আর যশোর জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে ৫০ লাখের বেশি। উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করছে ৪৫ লাখ শিশু, যাদের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু। এরা ঝড়-বৃষ্টিতে অনিশ্চিত আশ্রয়, খাবার ও শিক্ষার অভাবে বিপন্ন। শিক্ষা খাতেও পরিস্থিতি ক্রান্তিকর। কক্সবাজারের শিখন স্কুলে ১২ হাজার শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হলেও, মাধ্যমিক স্তরে ভর্তির সুযোগ নেই। অর্থসংকট ও অস্থায়ী শিক্ষাপদ্ধতির কারণে শিশুরা শিক্ষার ধারাবাহিকতা হারাচ্ছে। শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের হারও বেড়েছে। ইউনিসেফের শিশু-সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা ওয়েসল্যান্ড বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলছে। তারা নিরাপত্তাহীন পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে, শিক্ষার সুযোগ হারাচ্ছে এবং জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও ভোলা, ঘন ঘন দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও সমস্যা জটিল করে তুলেছে। জাতীয় শিশুনীতি ২০১১ অনুযায়ী দুর্যোগকালীন শিশু সুরক্ষা অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে বাস্তবায়নে জটিলতা রয়েছে। ইউনিসেফ আরও আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য জরুরি সম্পদ ও উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণ করা আবশ্যক।