
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর : চাঁদপুরের মাটিতে এক সময় আঙুর চাষ ছিল কল্পনার মতো বিষয়। দেশের আবহাওয়ায় বিদেশি এই ফল সফল হবে কি না, তা নিয়ে ছিল সংশয়। সেই সংশয়কে চ্যালেঞ্জে পরিণত করে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান প্রধানিয়া।
চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর–মতলব পেন্নাই সড়কের কালিভাংতি এলাকায় তাঁর গড়ে তোলা ‘প্রধানিয়া অ্যাগ্রো’ এখন স্থানীয়দের কাছে এক আকর্ষণীয় কৃষি উদ্যোগ। বাঁশের মাচার ওপর সারি সারি আঙুর লতা, আর তাতে ঝুলে থাকা সবুজ আঙুর—দূর থেকে দেখলে যেন বিদেশি কোনো আঙুর বাগান।
মাত্র ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেছিলেন কামরুজ্জামান। শুরুতে আবহাওয়া, মাটি ও পরিচর্যার নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য ও নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে তিনি সফলতা পান। বিদেশ থেকে বিভিন্ন জাতের চারা এনে মানিয়ে নেওয়ার কাজও ছিল কঠিন, তবে তিনি হাল ছাড়েননি।
বর্তমানে তাঁর উদ্যোগ শুধু একটি বাগানে সীমাবদ্ধ নয়। আরও দুইটি প্রজেক্টে চলছে আঙুর চাষ। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ১৮টি দেশের প্রায় ৮৫ জাতের আঙুর গাছ, যা দেশের কৃষি খাতে একটি বিরল উদাহরণ।
উৎপাদিত আঙুর ইতোমধ্যে বাজারজাত শুরু হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন বাগানটি দেখতে, অনুপ্রেরণা নিতে এবং নতুন কৃষি উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে।
কামরুজ্জামান প্রধানিয়া বলেন, করোনাকালে ছাদবাগান থেকে আঙুর চাষ শুরু করেন তিনি। পরে সফলতা দেখে ২০২৪ সালে মাঠ পর্যায়ে বাগান গড়ে তোলেন এবং ২০২৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে চাষ সম্প্রসারণ করেন। ভবিষ্যতে আরও বাগান ও চারা উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই আঙুর চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে। আমাদের কাছ থেকে অনেকে চারা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বেকার না থেকে নতুন উদ্যোক্তারা কৃষিতে যুক্ত হোক।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগান দেখে ঘুরতে আসা নাজমুল ইসলাম বলেন, “বাস্তবে বাগানটি দেখে আমি মুগ্ধ। আঙুর খেয়েও দেখেছি। অনুপ্রাণিত হয়ে আমিও ছাদে আঙুর চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করেছি।”
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু তাহের বলেন, সঠিক জ্ঞান ও পরিচর্যা থাকলে আঙুর চাষে সফলতা সম্ভব। আগ্রহীদের পরামর্শ নিতে তারা সহযোগিতা করবে।
প্রতিবছরই উৎপাদন বাড়ছে এই বাগানে। গত বছর প্রায় ৪০০ কেজি আঙুর উৎপাদন হলেও এ বছর তা কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তা।
