চঁদপুরে এমপি প্রার্থী হতে এক জেলার দুই উপজেলা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ years ago

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :

চাঁদপুরে সংসদ নির্বাচন করতে দুই আওয়ামী লীগের নেতা দুই উপজেলার চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন চাঁদপুরের দুই আওয়ামী লীগ নেতা। তারা হলেন- চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রোমান অন্য জন হলেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাইনুদ্দিন। মনোনয়ন পাওয়ার আগেই উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে নানা ধরনের আলোচনা, গুঞ্জন।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাঈনুদ্দিন বলেন, আমি পরপর তিন বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি চাঁদপুর – ৫ (হাজীগঞ্জ- শাহরাস্তি) আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ জন্য আমি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছি। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আমি নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করছি।

গতসোমবার (১৩ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছি।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) জেলা প্রশাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার চিন্তা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আমি বলবো না। এটিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটিই করবো।

অন্য দিকে চাঁদপুর-৪ আসনে নির্বাচন করতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম রোমান। পরে তিনি বুধবার (৮ নভেম্বর) দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীদের নিয়ে শোডাউন করে বিষয়টি জানান দেন।

চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, আমি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। তবে দলের ঐক্যের প্রশ্নে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করি। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে পালন করেছি। এখন ফরিদগঞ্জের জনগণ আমাকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। তাই জনগণের চাপের কারণে তফসিল ঘোষণার আগেই চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।

চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা তিনি আরও বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবার আমাকে মনোনয়ন দেবেন। আমার বিশ্বাস, আমি নির্বাচিত হয়ে ফরিদগঞ্জকে স্মার্ট, মডেল ও সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলা হিসেবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে পারবো।

অন্য দিকে ভাবছেন চাঁদপুরের অন্য উপজেলা চেয়ারম্যানরা। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান এম এ কুদ্দুস চাঁদপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম, পাইনি। এবার আমি মনোনয়ন চাইবো, প্রার্থী হবো ইনশাআল্লাহ । প্রচার-প্রচারণা চলছে। আশা করি, তৃণমূলকে নেত্রী এবার অন্য মর্যাদায় নিয়ে আসবেন। সেখানে আমার প্রার্থী না হওয়ার কোনও কারণ নেই।

এ মুহূর্তে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছাড়া সম্পর্কে তিনি বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার পর যখন মনোনয়নপত্র জমা দেবো তখন আমাকে নিয়মানুযায়ী পদত্যাগ করতে হবে। মনোনয়ন চাইতেতো আর বলেনি আমাকে রিজাইন করতে হবে। আসন্ন জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের উপর নির্ভর করবে, আমি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছাড়বো কি না।

চাঁদপুরের সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে থেকেও জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ আছে। জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ আমার নেই। তারা সংসদ নির্বাচন করবেন মনোনয়ন পেলে। নাকি না পেলেও করবেন? এগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে থেকেও নমিনেশন চাইতে পারেন। পদ ছেড়ে দিলেই যে কেউ মনোনয়ন পাবেন এর কোন নিশ্চয়তা নেই।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার আগেই পদত্যাগ বাধ্যতামূলক না। এটি যার যার ইচ্ছার ওপর একটু রঙ লাগানো।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন তারা।