ঘূর্ণিঝড়ের আগাম প্রস্তুতি জরুরি: উপকূলের মানুষ রক্ষার চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম :প্রকৃতির নিয়মে আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে সতর্কতা প্রয়োজন। আবহাওয়া পরিবর্তন ও বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের কারণে লঘুচাপ দ্রুত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা যেমন ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাত প্রমাণ করে, উপকূলীয় মানুষের জন্য প্রস্তুতি ছাড়া জীবন ও জীবিকার বড় ক্ষতি হতে পারে।

উপকূলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো নড়বড়ে বেড়িবাঁধ। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সামান্য জলোচ্ছ্বাসেও পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে, কৃষিজমি নষ্ট হয় এবং মানুষ বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক অগ্রগতি করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে আশ্রয়কেন্দ্রের পর্যাপ্ত ক্ষমতা, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য নিরাপত্তা, পশুর জন্য আলাদা স্থানের অভাব এখনও বড় সমস্যা। আগাম সতর্কবার্তা, স্থানীয় যুবসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকা দুর্যোগ ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।

মৎস্য খাতের ওপরও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব প্রবল। জেলেরা সতর্ক সংকেত পড়লে খালি হাতে তীরে ফিরে আসে, আয়ের পথ বন্ধ হয়। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম প্রস্তুতি, আর্থিক সহায়তা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা আজকের প্রাথমিক প্রয়োজন।

উপকূলীয় মানুষদের বাঁচাতে একমাত্র পথ হলো দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতি নেওয়া। বিজ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমন্বিত ব্যবস্থা ছাড়া কোনো বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব নয়।