গুলশান-বনানীতে ব্যতিক্রমী ‘বিক্ষোভ মিছিল’, নেতৃত্বে ছিলেন ইয়াসিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

সাইফ উল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকায় ব্যতিক্রমী এক প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ছাত্রনেতা ইয়াসিন আহমেদ। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে তাঁর নেতৃত্বে ওই এলাকায় ‘বিক্ষোভ মিছিল’ কর্মসূচি পালিত হয় বলে আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, গুলশান-বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক এলাকায় সে সময় এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা সহজ ছিল না। দেশজুড়ে আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশে বাধার মধ্যেই ওই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা ইয়াসিন আহমেদ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গুলশান ও বনানী এলাকায় সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি বিভিন্নভাবে কাজ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যতিক্রমী ‘বিক্ষোভ মিছিলের’ আয়োজন করা হয়।

গুলশান-বনানীতে কর্মসূচি

আন্দোলনকারীরা জানান, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচি পালন করলেও গুলশান-বনানীর মতো এলাকায় বড় পরিসরে মানুষকে রাজপথে নামানো ছিল চ্যালেঞ্জের। এমন পরিস্থিতিতে ইয়াসিন আহমেদের নেতৃত্বে ওই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

তাঁদের দাবি, কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে আন্দোলনের দাবিগুলো ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বাড়ে।

আন্দোলনকারীদের কয়েকজনের ভাষ্য, গুলশান-বনানীতে কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে ইয়াসিনের সাংগঠনিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কর্মসূচি সফল করতে তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁদের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রচারের বাইরে থাকার দাবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বললেও ইয়াসিন আহমেদ প্রচারের বাইরে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে তাঁর সহযোদ্ধারা দাবি করেন।

আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, আন্দোলনের সময় তিনি নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সংগঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে আন্দোলনের পর নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রচার বা ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেননি।

তাঁদের মতে, ইয়াসিনের মূল লক্ষ্য ছিল আন্দোলনকে সংগঠিত করা এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা। এ কারণে তাঁর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় ও আন্দোলনসংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা থাকলেও তিনি নিজে তা সামনে আনতে আগ্রহী নন।

আন্দোলনকারীদের মূল্যায়ন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের কয়েকজন বলেন, গুলশান-বনানীর ‘বিক্ষোভ মিছিল’ ছিল আন্দোলনের সময়কার ব্যতিক্রমী কর্মসূচিগুলোর একটি। তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকায় কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

তাঁরা বলেন, আন্দোলনের সময় নানা ধরনের বাধা ও ঝুঁকি ছিল। এর মধ্যেও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি পালন করা সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাহসের বিষয় ছিল। ইয়াসিন আহমেদের নেতৃত্বে নেওয়া ওই উদ্যোগ ঢাকা মহানগর উত্তরের আন্দোলনকে আরও সক্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছিল বলে তাঁদের দাবি।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে আরও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক গবেষণা ও নথিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।