গ্রামেও কমছে কাক, পরিবেশে বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট ও দূষণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা

সিরাজুল ইসলাম : শহরের পর এবার গ্রামেও চোখে পড়ার মতো কমে যাচ্ছে পরিচিত পাখি কাক। একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি গাছ, বৈদ্যুতিক তার ও টিনের চালায় যে পাখিটির অবাধ বিচরণ ছিল, তা এখন অনেক এলাকাতেই প্রায় অনুপস্থিত। এতে পরিবেশবিদ ও পাখিপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাক শুধু একটি সাধারণ পাখি নয়, বরং এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে একসময় কাকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালে বৈদ্যুতিক তারে সারি বেঁধে বসা, মাঠে ও ডাস্টবিনে খাবার খোঁজা—এসব দৃশ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে কাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেসব গাছে কাকের বাসা ছিল, সেগুলোর অনেকটাই এখন আর নেই।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক এস আই সোহেল বলেন,
“শুধু কাক নয়, দোয়েল, শালিক, কোকিলসহ অনেক পাখিই কমে যাচ্ছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বাসস্থান ধ্বংস, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও খাদ্য সংকট।”

তিনি আরও বলেন, কাক পরিবেশের ‘ঝাড়ুদার’ হিসেবে কাজ করে। এরা মৃত প্রাণী ও বর্জ্য খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখে। কাক কমে গেলে পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

দৌলতপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক জানান, “অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা, নগরায়ণ এবং খাদ্য সংকটের কারণে কাক তার স্বাভাবিক পরিবেশ হারাচ্ছে। ফলে তাদের প্রজননও কমে যাচ্ছে।”

তিনি জানান, বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাক কমে গেলে শুধু একটি প্রজাতি হারায় না, বরং পুরো খাদ্যশৃঙ্খলে প্রভাব পড়ে। বর্জ্য অপসারণে সমস্যা দেখা দেয়, ফলে অন্যান্য প্রাণী—বিশেষ করে কুকুরের সংখ্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

পরিবেশ গবেষকরা বলছেন, কাক হারিয়ে যাওয়া মানে হলো শহর ও গ্রামের পরিবেশ আরও “নীরব ও ভঙ্গুর” হয়ে যাওয়া।

একসময় গ্রামবাংলার সকাল মানেই ছিল কাকের কা কা ডাক। আজ সেই ডাক অনেক জায়গায় নীরব হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, এটি শুধু একটি পাখির হারিয়ে যাওয়া নয়—বরং প্রকৃতির একটি সতর্ক সংকেত।