গাজীপুরের কালীগঞ্জে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

মোঃ আলমগীর মোল্লা : গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ খালেকুজ্জামান বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস. এম. হাফিজুর রহমান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি ও হেড অব অপারেশন মোঃ মনিরুজ্জামান মোল্লা।

এছাড়াও বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় সহস্রাধিক অতিথি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম চুপাইরে ১৯২৫ সালে স্থানীয় জ্ঞানতাপস বাবু শশী মোহন চক্রবর্তী চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দেবনাথের নেতৃত্বে ১৭ জন সহকারী শিক্ষক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ৫৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন। বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ৭ জন কর্মচারী।

চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় শুধু চুপাইর গ্রাম নয়, বরং পার্শ্ববর্তী কলাপাটুয়া, ছৈলাদী, মেন্দিপুর, বড়ভোলা, বাগদী, রাতকানা, শিংলাব, কাপাইশ, শিবপুর, বেলনা, মাঝুখান, জাংগালিয়া, ফুলদী, বাঘুন, মৈশাইর, কলুন, কৌচান, দক্ষিণবাগ, ভাটিরা ও উত্তর জামালপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় আজ গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা। এটি কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি বিশ্বাস ও আত্মিক বন্ধন। অতীতের ঐতিহ্য, বর্তমানের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নকে ধারণ করে বিদ্যালয়টি একটি জীবন্ত ইতিহাস হয়ে আছে।

বক্তারা আরও জানান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়ের একটি অংশ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পায় এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।