খামারে প্রস্তুত স্বাস্থ্যবান পশু, বড়াইগ্রামে চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

রতন আলী, নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ৬৬ হাজার গবাদিপশু। অতিরিক্ত লাভের আশায় খামারিরা শেষ মুহূর্তেও পশুগুলোর খাদ্য ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বড়াইগ্রামে নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ২ হাজার ৯৬৭ জন। তাদের খামারে রয়েছে ১৪ হাজার ৮৬৮টি ষাঁড়, ৩৮৫টি বলদ, ৮৬৭টি গাভী, ৯১টি মহিষ, ৪৫ হাজার ৪৭৫টি ছাগল এবং ৪ হাজার ৩৪৩টি ভেড়া। সব মিলিয়ে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৬৬ হাজার ২৯টি গবাদিপশু।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব বলছে, উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩৪ হাজার ১৫৫টি। সে হিসেবে প্রায় ৩১ হাজার ৮৭৪টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা যাবে।

মাঝগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও খামারি আব্দুল্লাহ আল আজাদ দুলাল বলেন, “এ বছর আমার খামারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ১৭টি গরু প্রস্তুত করেছি। এগুলোর দাম এক লাখ ৫০ হাজার থেকে শুরু করে চার-পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির পরিকল্পনাও নিয়েছি। আশানুরূপ দাম পেলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “গমের ভুসি, খৈল, খড়সহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়ায় খামার পরিচালনায় কিছুটা চাপ ছিল। তবুও অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে ভালো দর পেলে আমরা লাভবান হব।”

লক্ষ্মীচামারী গ্রামের খামারি মো. আজিজুল হক বলেন, “আমরা অনেক আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। খামারে স্বাস্থ্যবান ও মানসম্মত গরু লালন-পালনে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও পরিচর্যার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বাজারে দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকবে বলে মনে করছি। যদি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য না থাকে, তাহলে সরাসরি খামার থেকে ন্যায্যমূল্যে গরু বিক্রি করা সম্ভব হবে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “আমাদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ ও আধুনিক পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বড়াইগ্রামে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল থাকলে খামারিরা লাভবান হবেন।”

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “কোরবানির পশুর সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাজারে যদি কোনো সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সক্রিয় হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খামারিরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও আমরা নজর রাখছি।”