
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার ও দখল করা জমি ফেরতের দাবিও জানান তাঁরা।
মঙ্গলবার দুপুরে চৌডালা মাদরাসা মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে অংশ নেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ও এলাকার শতাধিক মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এলাকার শাহ আলম ওরফে কাজল নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। তিনি বিভিন্ন মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছেন। কেউ বাধা দিতে গেলে তাঁর সহযোগীরা হামলা ও মারধর করে। এমনকি জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এখন পর্যন্ত চৌডালা ইউনিয়নের মাদরাসা মোড় এলাকার শরিফুল ইসলামের ৭ কাঠা, রোকনের সাড়ে ১৩ কাঠা, জোসনা বেগমের ২ কাঠা, আব্দুর রাজ্জাকের ৯ কাঠা এবং বাঘমারা এলাকার তুহিনের সাড়ে ৩ কাঠা জমি দখল করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বদিউর রহমান, আব্দুল মতিন, তুহিন, জোসনা খাতুন, সাইদুর রহমানসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত শাহ আলম স্থানীয় থানার এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
তাঁদের অভিযোগ, গোমস্তাপুর থানার এএসআই সাইদুরের সহযোগিতায় জমি দখল ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও শাহ আলম ওরফে কাজলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
তবে তাঁর মামা তাজেমুল হক বলেন, “আমার ভাগনে নিজেকে ক্যাপ্টেন পরিচয় দেয় না। এলাকার লোকজন তাঁকে ক্যাপ্টেন বলে ডাকে। জমিগুলো কাগজপত্র অনুযায়ী দখলে নেওয়া হয়েছে। জোরপূর্বক দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এএসআই সাইদুরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
