
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কুড়িগ্রামে বিকাশ এজেন্টের ছিনতাই হওয়া ১৫ লক্ষ টাকার অবশিষ্ট ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধারসহ মূলহোতা মোঃ মোস্তফা (৩০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ এপ্রিল বিকাশ কর্মী ভূরুঙ্গামারীর বাগভান্ডার এলাকার শ্রী শুভ কুমার রায় (২৬) ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে বিকাশ এজেন্টদের নিকট বিলি করার জন্য মোটরসাইকেল যোগে ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। একই তারিখ বেলা সাড়ে ১১টায় ওই বিকাশ কর্মী ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট যাওয়ার পথে অত্র থানাধীন দক্ষিণ ভরতেরছড়া এলাকা দিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে (পূর্বে গ্রেফতারকৃত) আসামী নাগেশ্বরী থানার শান্তিটারি দিঘিরপাড় এলাকার শ্রী প্রসেনজিত বর্মণ (২৭), বোয়ালেরডাড়া এলাকার মোঃ খাদিমুল ইসলাম (লাল) (২৭) ও ভূরুঙ্গামারী গনায়েরকুটি গ্রামের (পলাতক) মোঃ মোস্তফা (৩০) তাদের ব্যবহৃত চলন্ত মোটরসাইকেল দ্বারা একই উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করে দস্যুতার জন্য বিকাশকর্মীর চলন্ত মোটরসাইকেলের পিছন থেকে ধাক্কা দিলে বিকাশকর্মী তার সঙ্গে থাকা টিএমও শ্রী বিদ্যুৎ চন্দ্র সহ পাঁকা রাস্তার উপড় পড়ে যায়। সেই সুযোগে মোটরসাইকেলে থাকা আসামীগণ বিকাশকর্মী ডিএসও শ্রী শুভ কুমার এর কাছে থাকা ১৫ লক্ষ টাকা রক্ষিত একটি ব্যাগ দস্যুতা সংঘটনের মাধ্যমে ছিনতাই করে সোনাহাটের দিকে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই কচাকাটা ও ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ কর্তৃক প্রসেনজিৎ, খাদিমুল ও তাদের সহায়তাকারী মোন্নফকে কচাকাটা থানাধীন ছনবান্দা খলিশাবাড়ি এলাকা থেকে দস্যুতালব্ধ ১৫,০০,০০০/- (পনের লক্ষ) টাকার মধ্যে ৭,৬০,০০০/- (সাত লক্ষ ষাট হাজার) টাকা সম্বলিত একটি কালো রংয়ের হাত ব্যাগ ও দুস্যতার ঘটনায় ব্যবহৃত কালো সবুজ রংয়ের বাজাজ পালসার (১৫০ সিসি) মোটরসাইকেল সহ গ্রেফতার করে।
ঘটনার পরবর্তীতে এজাহার নামীয় গ্রেফতারকৃত আসামীগণ ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দির প্রেক্ষিতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী নাগেশ্বরী থানার কুটিপয়রাডাঙ্গা গ্রামের মোঃ রুহুল আমিন (২৮) কে গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত আসামীও ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
আসামীদের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি ও মামলাটির তদন্তকালে এই দস্যুতা সংঘটনের মূলহোতা ও পরিকল্পনাকারী এজাহার নামীয় আসামী মোঃ মোস্তফা (৩০) দীর্ঘদিন আন্তগোপনে থাকার পর জেলা পুলিশের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গত ২৫ এপ্রিল বিকালে ডিবি কুড়িগ্রামের একটি চৌকস টিমের সহযোগীতায় ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ কর্তৃক কুড়িগ্রাম থানাধীন জিয়া বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামী মোঃ মোস্তফাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে ও তার হেফাজতে দস্যুতালব্ধ টাকা আছে মর্মে স্বীকার করে। ধৃত আসামীর স্বীকারোক্তি মোতাবেক ধৃত আসামী সহ অভিযান পরিচালানা করে তার দেখানো মতে তার বসত বাড়ির পশ্চিম ভিটার পূর্ব দুয়ারী চৌচালা টিনের ঘরের চাঙ্গের উপর হতে দস্যুতালব্ধ অবশিষ্ট ৭,৪০,০০০/- (সাত লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকার মধ্যে হতে বিকাশের জনতা ট্রেডার্স কোম্পানীর ব্যাগ সহ ৬,৬০,০০০/- (ছয় লক্ষ ষাট হাজার) টাকা আজ রাত আনুমানিক ৩.৪৫ ঘটিকার সময় উদ্ধার করা হয়।
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশকর্মীর ১৫ লক্ষ টাকা ছিনতায়ের ঘটনায় লুন্ঠিত ১৫,০০০০০/- (পনের লক্ষ) টাকার মধ্যে হতে সর্ব মোট ১৪,২০,০০০/- (চোদ্দ লক্ষ বিশ হাজার) টাকা উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত মোটসাইকেল ও অন্যান্য সকল আলামতও জব্দ করা হয় এবং জড়িত সকল আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সেই সাথে উক্ত দস্যুতার পুরো অর্থ উদ্ধার সহ সকল অপরাধীদের গ্রেফতার করে পূর্নাঙ্গ রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ। এতেই প্রমানিত হয়, কুড়িগ্রাম জেলায় যেই অপরাধ করুক না কেন, যেভাবেই করুক না কেন, কারোরই পুলিশের হাত থেকে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
