
রংপুর প্রতিনিধি : পরিবর্তিত জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং একই জমিতে লাভজনক ও টেকসই উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) উপজেলার চর গোদাই গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) রাইস ফার্মিং সিস্টেম (আরএফএস) বিভাগের উদ্যোগে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে জানানো হয়, দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে আরএফএস বিভাগ এলাকায় উপযোগী একাধিক শস্যবিন্যাস উদ্ভাবন করেছে। এরই অংশ হিসেবে কৃষক মো. আব্দুর রাজ্জাকের এক একর জমিতে ‘জোড়া সারি ভুট্টা ও জোড়া সারি আলু–পাট–রোপা আমন’ শস্যবিন্যাসের পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। আগে একই জমিতে প্রচলিত ছিল ‘ভুট্টা–পতিত–রোপা আমন’ পদ্ধতি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নতুন শস্যবিন্যাসে জমির পতিত সময় কমে আসে এবং ফসলের নিবিড়তা বাড়ে। এতে একই জমি থেকে বেশি উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হয়। পাশাপাশি মাটির উর্বরতা রক্ষায়ও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ব্রি রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রকিবুল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রির সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোছা. সেলিমা জাহান এবং কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া আক্তার। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ব্রি গাজীপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আক্তার।
সমাবেশে প্রায় ১০০ জন কৃষক, কৃষক প্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, নতুন শস্যবিন্যাস প্রচলিত চাষ পদ্ধতির তুলনায় অধিক লাভজনক। এটি সম্প্রসারিত হলে রংপুর–দিনাজপুর অঞ্চলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত হবে।
