
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী (কবিরহাট) : নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এলজিইডির গ্রামীণ সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ধানশালিক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে। কোনো ধরনের টেন্ডার বা নিলাম ছাড়াই কয়েক লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানশালিক ইউনিয়নের জনতা বাজার সড়কের পাশে এলজিইডির চলমান উন্নয়নকাজের সময় এসব গাছ কাটা হয়। রিকশাচালকের দোকান থেকে ধানশালিক বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গাছগুলো সম্প্রতি কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, শুরুতে তাঁরা ভেবেছিলেন উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে সরকারি অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা হচ্ছে। পরে জানতে পারেন, কোনো টেন্ডার বা নিলাম ছাড়াই গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নিজস্ব লোকজন দিয়ে গাছ কাটা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করতেও অনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে দাবি করেন কেউ কেউ।
তবে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
অন্যদিকে জিয়ার ভাগিনা ইয়াছিন গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “গাছগুলো আমার মামা কাটছেন। কোনো টেন্ডার হয়নি। স্থানীয়ভাবে খালের ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।”
কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী ইসলাম হোসেন বলেন, “জিয়াউল হক জিয়া এর আগেও সড়কের পাশের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তখন ইউএনওকে জানানো হয়েছিল। এবারও অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।”
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুদম পুষ্প চাকমা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগ ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সরকারি সম্পদ রক্ষায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
