কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ট্যুরিস্ট পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

দিদারুল আলম সিকদার,  কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো পর্যটক। নীল জলরাশি, গর্জন করা ঢেউ আর হিমেল বাতাসের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ উপভোগ করতে ছুটে আসেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে পরিবার, বন্ধু কিংবা অফিস সহকর্মীদের সঙ্গে। এই পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার।

বিশেষ করে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে অনেক ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্র গ্রেপ্তার হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের এই কঠোর অবস্থান পর্যটকদের মনে ফিরিয়ে এনেছে আস্থা।

পর্যটকদের হয়রানি, ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সৈকতের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ সদস্যদের টিম। পাশাপাশি কাজ করছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা টিমও। ইতিমধ্যে বিদেশি নাগরিকের হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার, মোবাইল ছিনতাই সহ নানা অপরাধমূলক ঘটনায় অপরাধী গ্রেপ্তারসহ একাধিক সফলতা ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে।

শিশু হারানো ঘটনা কক্সবাজার সৈকতে একটি নিয়মিত চ্যালেঞ্জ। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতায় একের পর এক শিশুদের উদ্ধার করে পৌঁছে দিচ্ছে পরিবারের কাছে। 

বিচ বাইক, ঘোড়া চালক ও ফটোগ্রাফারদের দ্বারা পর্যটক হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই সমস্যা সমাধানে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তাদের থেকে নেয়া হয়েছে পর্যটক হয়রানি না করার অঙ্গীকার।

পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাই ট্যুরিস্ট পুলিশের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের  অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণা, হয়রানি বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসাথে শিশুদের নিরাপত্তা ও হারানো মোবাইল বা মানিব্যাগ উদ্ধারের কাজেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাই, কক্সবাজারে আসা প্রতিটি পর্যটক যেন নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং আনন্দময় অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।”

কক্সবাজারকে অপরাধমুক্ত নিরাপদ পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশের এই কার্যক্রম নিঃসন্দেহে একটি বড় অগ্রগতি। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের দূরদর্শী নেতৃত্বে নিরাপত্তা, সচেতনতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে একটি নতুন কক্সবাজার, যেখানে পর্যটকরা ফিরবেন নিশ্চিন্তে ও আনন্দে।