এক দশকে লক্ষ্মীপুরে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে প্রায় ১৪০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা গেছে, গত এক দশকে লক্ষ্মীপুর জেলায় অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আয়োজিত সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

সেমিনারে জানানো হয়, ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারি অনুযায়ী দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি। ২০১৩ সালের শুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫। সেই হিসাবে ১১ বছরে দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর জেলায় বর্তমানে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৫টি। এর মধ্যে স্থায়ী ইউনিট ৭৫ হাজার ৫৫৫টি, অস্থায়ী ইউনিট ৪ হাজার ৭৬১টি এবং অর্থনৈতিক খানা (হাউজহোল্ড) রয়েছে ৫৮ হাজার ৫৭৯টি। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে জেলায় মোট অর্থনৈতিক ইউনিট ছিল ৫৭ হাজার ৮২৬টি। সেই হিসাবে এক দশকে জেলায় অর্থনৈতিক ইউনিট বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪০ শতাংশ।

শুমারির তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইউনিটে বর্তমানে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪০ জন কর্মরত রয়েছেন। জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুসারে জেলায় ৪৬টি বৃহৎ শিল্প, ৩৬৯টি মাঝারি শিল্প, ৬ হাজার ৫৫৭টি ক্ষুদ্র শিল্প, ৭৮ হাজার ৭৬৮টি মাইক্রো শিল্প এবং ৫৩ হাজার ১৫৫টি কুটির শিল্প রয়েছে।

সেমিনারে আরও জানানো হয়, দেশের কৃষি বহির্ভূত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই এখন সেবা খাতনির্ভর। মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯০ দশমিক ২ শতাংশ সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে শিল্প খাতের অংশ ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর মধ্যে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাত সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিনিয়োগ সম্ভাবনা চিহ্নিতকরণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জেলার অর্থনৈতিক অগ্রগতির বাস্তব চিত্র জানতে এসব তথ্য কার্যকর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শাহীন, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা।

এ সময় জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।