
নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সোমবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, একটি ভালো নির্বাচনের প্রথম শর্ত হলো ভালো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। পরিস্থিতি ভালো থাকলে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা খালি হাতে লড়াই করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। আজ আমাদের হাতে আইন, কানুন এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রয়েছে। তাহলে আমরা কেন একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে পারব না?”
স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গ্রাম-পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা এলাকায় বহিরাগতদের উপস্থিতি, ভোটার তালিকার বাস্তব অবস্থা এবং স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। তাঁদের তথ্য ও সোর্স যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটার কর্তৃক সরাসরি ভেরিফাই না হওয়া কোনো ব্যালট গ্রহণযোগ্য হবে না। লাইভ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভোট দিতে হবে, অন্যথায় সেই ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তিনি বলেন, এটি দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন, যা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
মতবিনিময় সভায় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৪ ব্যাটালিয়নের সিইও মো. মোশারফ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
