
মোঃ শফিক তপাদার, নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নিলকমল ইউনিয়নের ৩৬৯ নং সোনাপুর তাজপুর বাহেরচর মৌজার সম্পত্তি কিছু ভূমি দস্যুদের হাত রক্ষা না করলে সরকারের ঘোষিত অর্থনৈতিক জোনের অন্তর্গত ব্যাপক ক্ষতিগস্ত হবে।
ভুক্তভুগী নিরীহ অসহায় মানুষের ভূমি নিয়ে কিছু ভূমি দস্যু সন্রাসী বাহিনী চাঁদপুর হাইমচর উপজেলার নদী ভাঙ্গন এলাকা নিলকমল ইউনিয়নের ৩৬৯ নং সোনাপুর তাজপুর প্রকাশ্যে বাহেরচর মৌজার কবুলিয়ত দলিল মূলে মালিক বটে। কিন্তু নদী ভাঙ্গনের কারনে দলিল কৃত সম্পত্তির ভোগ দখল রাখিয়া বিভিন্ন ভাবে বসবাস করার কারনে এবং বিভিন্ন স্থানে কর্ম করার কারনে সম্পত্তি রাখিয়া যান।
চাঁদপুর, শরিয়তপুর ও বরিশালের কিছু ভূমি দস্যুগন যোগসাজেসে ৩৬৯ নং সোনাপুর তাজপুর প্রকাশ্যে বাহেরচর মৌজার কবুলিয়ত দলিলের মালিকগনের ভূমি জোর পূর্বক জবর দখল করে ফসল ফলাদি কেটে নিয়ে গিয়ে ভোগ বিলাস করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। বর্তমানে দায়েমী চর নারায়নপুর নামে ভূয়া একটি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে ১৯৪৫ সনে ঘোষেরহাট উপজেলা, জেলা শরিয়তপুর উল্লেখ্য করে একটি ম্যাপ সৃজন করে।
বাস্তবে ১৯৪৫ সনে ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা ছিলো শরিয়তপুর এবং ঘোষেরহাট নামে কোন উপজেলা ছিলোনা।
তাই প্রমানিত হয় যে দলিল কৃত মালিকের ভূমিটি মিথ্যা বানোয়াট ভাবে কাগজ সৃজনশীল করে কিছু ভূমি দস্যু সন্রাসী কোটি কোটি টাকা লোভে ১৯৪৫ সনের ম্যাপ তৈরি করেন। যখন সরকার ঘোষণা করেন বাহেরচরের এলাকাটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করবেন তখন এই ভূমি দস্যুরা যায়গাটি নিয়ে সরকারের কাছে বিক্রি করে দোওয়ার জন্য এই জালিয়াতি করে থাকেন। এতে করে সরকারের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।
আরো প্রকাশ থাকে যে, ঘোষেরহাট থানার অন্তর্গত সর্ব উত্তরে ১০২ নং কোদালপুর মৌজাটি অবস্থিত। যাহা ১৯৬৫-৭৫ সনে সরকার কর্তৃক জরিপ করা হয় এবং কোদালপুর মৌজার সমস্ত ম্যাপে কোদালপুর এর উত্তরে ৩৬৯ নং বাহের চর,থানা চাঁদপুর, জেলা কুমিল্ল লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু দায়েমী চর নারায়নপুর নামে কোন মৌজা লিপিবদ্ধ নাই। ফলে উক্ত থানার ম্যাপটির সঙ্গে সংযুক্ত দায়েমী চর নারায়নপুর মৌজাটি জাল হিসেবেও প্রমানিত হয়। যাহা সরকারের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।
তাহাছাড়া ১৯৭৭-৭৮ সনে ০৪ নং রিসেটলমেন্ট জরিপে বাহের চর মৌজার সম্পূর্ণ জমির জরিপ করে তিনটি ম্যাপ সৃজন করা হয়েছে। সে জরিপে কবুলিয়তের সমস্ত মালিকগনের নাম ভূমি দস্যুদের যোগসাজেসে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। তাই এই বিষয়ে মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য আদালতে মামলা চলমান আছে।
বর্তমানে অর্থনৈতিক জোনের কাজ চলমান থাকায় জেলার সীমানা চিহ্নিত কাজে ভূমি দস্যুরা ৩৬৯ নং বাহের চর মৌজার দায়েমী চর নারায়নপুর নামে ভূমি অন্তর্ভুক্ত করার পায়তারা করিতেছেন। শরিয়তপুর মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব নাহিম রাজ্জাক কে ভূমি দস্যুরা ম্যাপের ভুল তথ্য দিয়ে বাহের চর মৌজার ভূমি চর নারায়নপুর এর ভূমি বলে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন। তৎপ্রেক্ষিতে মাননীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সীমানা চিহ্নিত করার জন্য মহা পরিচালক, জরিপ অধিদপ্তর, তেজগাঁও, ঢাকা, বাংলাদেশকে লিখিত চিঠি প্রদান করেন।
প্রকাশ থাকে যে, চর নারায়নপুর মৌজাটি বাহের চর মৌজার উত্তরে অবস্থিত সখীপুর উপজেলার অন্তর্গত ভূমি বটে।
এমতাবস্থায় ভূমি দস্যুদের হাত থেকে চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ৩৬৯ নং সোনাপুর তাজপুর প্রকাশ্যে বাহেরচর মৌজার প্রকৃত কবুলিয়তের মালিকগনের ভূমি রক্ষা করার জন্য ভূমি দস্যুগন ভূল তথ্য দিয়ে সরকারের বিত্রান্ত করে ঘোষেরহাট থানার ম্যাপ জাল সৃজন করার জন্য এবং সীমানা চিহ্নিত কাজে প্রভাব বিস্তার করার জন্য ভূমি দস্যুদেরকে আইনের আওতায় এনে বিহীত কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সরকারের বাহাদুরের সদয় মর্জি হয়।
