
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে শুধু বাঘ বা কুমিরই নয়, রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপ শঙ্খচূড় (King Cobra)। স্থানীয়ভাবে ‘রাজ গোখরো’ নামেও পরিচিত এই সাপ সুন্দরবনের গভীর বনাঞ্চলে সবচেয়ে ভয়ংকর সরীসৃপ হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শঙ্খচূড় লম্বায় প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার বনাঞ্চলজুড়ে দেখা গেলেও বাংলাদেশের সুন্দরবনেই এদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হয়।
প্রাণীবিদরা বলছেন, শঙ্খচূড়ের বিষ নিউরোটক্সিক প্রকৃতির, যা সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। একটি দংশনে বড় আকারের প্রাণীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে স্বভাবতই এই সাপ মানুষের কাছাকাছি আসে না।
শঙ্খচূড়কে বলা হয় ‘সাপখাদক’। এটি অন্যান্য সাপই প্রধানত শিকার করে। র্যাট স্নেক, ক্রেইট, গোখরোসহ ছোট সাপই এর প্রধান খাদ্য। বনজীবীরা জানান, এটি সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডিম পাড়ার আগে স্ত্রী শঙ্খচূড় পাতা ও মাটি দিয়ে উঁচু ঢিবি তৈরি করে সেখানে ২০ থেকে ৪০টি ডিম দেয়। আশ্চর্যের বিষয়, ডিম পাহারা দেয় এই সাপটি নিজেই। প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডিম ফোটে।
শিশু শঙ্খচূড় জন্মের পর থেকেই বিষধর হয় এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।
শঙ্খচূড় ছাড়াও সুন্দরবনে রয়েছে ভারতীয় ও বার্মিজ অজগর। বিষধর না হলেও এরা বড় আকারের শিকারি হিসেবে বনজ প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
গবেষকদের ধারণা, সুন্দরবনের ঘন বন, খাল-বিল ও চরাঞ্চলে কয়েক হাজার অজগর ছড়িয়ে আছে। তবে সঠিক জনসংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন উজাড়, অবৈধ শিকার ও মানব-সাপ সংঘর্ষের কারণে এ ধরনের সরীসৃপ প্রাণী হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা অনেক সময় আতঙ্কে সাপ হত্যা করে ফেলেন।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এই গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী ভবিষ্যতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
