
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :
চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতের স্মরণে লক্ষ্মীপুর জেলায় গায়েবানা জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সোমবার (৫ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ঝুমুর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
জানাযা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি ঝুমুর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শহরের দক্ষিণ স্টেশন হয়ে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
পরবর্তীতে সমন্বয়কদের বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয় তাদের কর্মসূচি। মিছিলে কয়েক শতাধিক আন্দোলনকারী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে শান্তিপূর্ণভাবে লক্ষ্মীপুরে প্রত্যেকটি কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। তবে গত শুক্রবার আন্দোলনকারীদের মিছিলে অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে হামলা করে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একইভাবে গতকাল রোববারও বাগবাড়ি এলাকায় হামলা এবং গুলি করে তারা। এরপর আন্দোলনকারীরা দাওয়া দিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন টিপুর বাসভবনে অবস্থান নেয়। পরবর্তী সেখান থেকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি করে তারা। এতে ৪ জন নিহত ও গুলিবিদ্ধ হয় শতাধিক আন্দোলনকারী।
দীর্ঘ ৪ ঘন্টা ধরে চলা গুলিবর্ষণের পর আন্দোলনকারীরা টিপুর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় পালিয়ে যাওয়ার সময় ৪ জন ও পরবর্তীতে আরও ৩ জনকে পিটিয়ে মারে আন্দোলনকারীরা। রাত দেড়টার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ওই বাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এসময় অসুস্থ অবস্থায় ২৭ জন যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্ধার করা প্রশাসন। পরদিন সকালেও (সোমবার) আগুনে পোড়া এক যুবলীগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ওই বাসা থেকে।
এদিকে একইদিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপির বাসভবন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেলের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।
এছাড়াও লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজাদ ভূইয়ার মার্কেট এবং রাস্তার পাশে থাকা সিসি ক্যামেরাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। এরআগে যুবলীগের নেতাকর্মীরা লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ ভাংচুর করে।
