
দুর্যোগে বাড়ে ঝুঁকি, প্রয়োজন বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারী-পুরুষ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরাই তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত অংশগ্রহণ এবং পারিবারিক দায়িত্বের কারণে দুর্যোগের সময় নারীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগের সময় নারী ও শিশুর সুরক্ষায় নারীরা অগ্রাধিকার দেন। ফলে নিজের নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়। পাশাপাশি দারিদ্র্য ও সম্পদের অভাব তাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের পর কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।
উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটও নারীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে তারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও সবসময় নারীবান্ধব নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা, পৃথক স্যানিটেশন ও গোপনীয়তার অভাব থাকায় নারী ও কিশোরীরা হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নারী ও শিশুর সামাজিক সুরক্ষাকরণ’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশের বড় অংশ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি হবে।
আন্তর্জাতিক পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নারীদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি সংগঠন ও স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে নারীর ঝুঁকি ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।
