“ঘূর্ণিঝড় মিধিলি” কে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে প্রস্তুত ২ শত ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ years ago

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ” মিধিলি” এর ফলে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে।

যার ফলে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবিলায় মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর জেলায় ২ শত ৮৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য কোস্টগার্ডের রেসকিউবোটসহ ৬৪টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে থাকতে হবে। এ ছাড়া, যেকোন জরুরী প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোলরুম ও হটলাইন নাম্বার চালু করা আছে।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে এগারো টার দিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুরাইয়া জাহান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুরাইয়া জাহান জানান, ২ শত ৮৯টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ১ শত ৮৯টি স্থায়ী ও ১শত টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ১০ লাখ ৫ হাজার ২ শত ৫০ জনের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। ত্রাণের জন্য ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৫ শত টাকা ও ৪ শত ৭০ মেট্টিক টন চাল মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া শিশু ও গো-খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ আছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান আরও জানান, স্বপ্নযাত্রার ১৭টি অ্যাম্বুলেন্সসহ সরকারি-বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরী প্রয়োজনীয় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদরের মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চ ও ফেরিঘাট থেকে নৌ-পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। নদী উত্তপ্ত থাকা অবস্থায় যেন কোনো ধরনের নৌ-পরিবহন চলাচল না করে, তা তদারকি করা হবে।

উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সভা করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুরাইয়া জাহান বলেন, ‘মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনতে প্রশাসনসহ সিপিপি ও রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান জানিয়ে উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগজারিয়া ও চর আব্দুল্লাহ নদী বেষ্টিত চর হওয়ায় সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি ৩২৮০জন সিপিপি ও ৪৫০ জন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবেন।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেহের নিগার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইউনুছ মিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ।