গভীর রাতে সড়ক তদারকি করছেন জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর জেলার পৌর শহরে একটি সড়ক সম্প্রসারণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগে এ নিয়ে অভিযোগ করায় কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এর দুইদিন পর জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে আবার শুরু হয়েছে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ। 

জানা যায়, ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর শহর সংযোগ সড়কটির দক্ষিণ স্টেশন থেকে উত্তর স্টেশন ও ঝুমুর থেকে সওজ কার্যালয় পর্যন্ত  সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে ১৯ ডিসেম্বর।

কাজটি পেয়েছেন এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও মেসার্স সালেহ আহমেদ জেবি।

২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও প্রকল্পটি ৩ বার সংশোধনের পর ২০২৪ সালে কাজটি শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। 

সড়ক ও জনপদ (সওজ) সূত্র জানা যায়, প্রকল্পের অধিনে সড়কটি ৩৬ ফুট প্রশস্ত ও এর উভয় পাশে ৬ ফুট করে ড্রেন নির্মাণ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজ শুরুর পর ড্রেনের আকার ৩ ফুটে এসে দাঁড়ায়।

এছাড়াও, সড়কে ৮০ শতাংশ পাথর ও ২০ শতাংশ বালু দেওয়ার কথা থাকলেও তার উল্টোটি করা হয়। ঠিকাদার ২০ শতাংশ পাথর কমিয়ে বালু দিয়ে সাবগ্রেড তৈরি করছেন। এছাড়া সাবগ্রেড তৈরির পর কার্পেটিংয়ের জন্য ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হলেও তা করা হয়নি। সাবগ্রেড তৈরির ২ দিন না যেতেই কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করা হয়।

এ নিয়ে গত শুক্রবার (৩১ মে) রাতে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে চলমান কাজ বন্ধের জন্য দাবি তোলে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত তিন বারের চেয়ারম্যান এ.কে.এম সালাহ্ উদ্দিন টিপু ঘটনাস্থল উপস্থিত হোন। পরে সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এরপর দু’দিন বন্ধ ছিল কাজটি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর আগে রোববার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডিসিসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) এবি ছিদ্দিক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম সালাহ্ উদ্দিন টিপু বৈঠক করেন।

তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সড়কটি প্রায় ৫ ইঞ্চি কার্পেটিং হবে। অনিয়মের সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ তদারকির মাধ্যমেই কাজটি সম্পন্ন হবে। বিষয়টি তারা তদারকি করবেন। 

এদিকে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করতে মাঠে নেমেছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। রবিবার (২ জুন) রাত ১১ টার দিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুরাইয়া জাহানের উপস্থিতিতে ফের কাজ শুরু হয়। এরপর রাত ১টার দিকেও কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজটি সরজমিনে তদারকি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুরাইয়া জাহান বলেন, অভিযোগ পেয়ে শহরে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়েছি। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সঠিক তদারকির মাধ্যমেই নির্দিষ্ট নিয়মে কাজ সম্পন্ন হবে। কোনো দুর্নীতি করার সুযোগ নেই।