
রায়পুরে নেই আগের মতো কেনাবেচা
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১ নম্বর উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নে একসময় জমজমাট ছিল কামারদের কর্মচাঞ্চল্য। দা, বটি, কুড়াল, কোদাল ও ছুরিসহ কৃষিকাজে ব্যবহৃত নানা ধরনের লোহার সরঞ্জাম তৈরির শব্দে মুখর থাকত পুরো এলাকা। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই অতীত। দোকানে ক্রেতার আনাগোনা কমে গেছে, হাতুড়ির শব্দও শোনা যায় খুব কম। ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প।
স্থানীয় কামাররা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু করে বোরো মৌসুম পর্যন্ত কৃষকদের ভিড়ে দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যেত না। প্রতিদিনই দা, বটি, কুড়াল ও কোদাল বিক্রি হতো। তবে বর্তমানে বাজারে কম দামে কারখানায় তৈরি রেডিমেড লোহার সরঞ্জাম সহজলভ্য হওয়ায় হাতে তৈরি পণ্যের চাহিদা অনেক কমে গেছে।
একজন কামার কর্মকার বলেন, ‘আগে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হতো। এখন কোনো দিন ২০০ টাকাও বিক্রি হয় না। অথচ লোহা, কয়লা ও শ্রমের খরচ সবই বেড়েছে। এ অবস্থায় দোকান চালিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, রেডিমেড পণ্যের দাপট এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কামারশিল্প চরম সংকটে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পেশাটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও। তরুণরা এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে।
গ্রামের প্রবীণদের মতে, কামারশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন বহু পরিবার। কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে অচিরেই এই লোকজ শিল্প হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কাঁচামাল সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা হলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
