সাতক্ষীরার আম রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত: লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার কোটি টাকা, যাবে ইউরোপ-আমেরিকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় আম উৎপাদনে এ বছর রেকর্ড সাফল্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় এবার আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ২০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির প্রস্তুতি চলছে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, তালা, কলারোয়া, আশাশুনি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আমগাছে এখন মুকুলের সমারোহ। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে মুকুল বেশি এসেছে, ফলে ফলনও বাড়বে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় ১৩ হাজারের বেশি আমচাষি রয়েছেন। মোট ৪ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪০–৬০ হাজার মেট্রিক টন।

এখানে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, গোবিন্দভোগসহ প্রায় ৩০–৪০ জাতের আম উৎপাদিত হয়।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর জার্মানি, ইতালি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হবে। বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও গোবিন্দভোগ আম বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

এ বছর গোবিন্দভোগ আম প্রথমবারের মতো রপ্তানি তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে জার্মানিতে আম রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম ১৫–২০ দিন আগে পাকে। এ কারণে রপ্তানি বাজারে এ জেলার আমের চাহিদা বেশি।

স্থানীয় চাষিরা বলছেন, এবার গাছে ভালো মুকুল এলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তারা লাভবান হবেন। তবে অতীতের মতো ঝড়-বৃষ্টি বা রোগবালাই দেখা দিলে উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।

কলারোয়ার চাষি দাউদ মোল্লা জানান, বিদেশি বায়াররা উচ্চ দামে আম কিনলেও চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে কাঁচা আম সংগ্রহ ও কার্বাইড ব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া বা বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, আধুনিক চাষাবাদ, প্রশিক্ষণ ও রপ্তানি সহায়তার মাধ্যমে সাতক্ষীরার আম ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য হয়ে উঠবে।

এ বছর রপ্তানি ও দেশীয় বাজার মিলিয়ে সাতক্ষীরার আম অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।