সাতক্ষীরা: সম্ভাবনাময় জেলা, তবে এখনও উন্নয়নের অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলা দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হলেও দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের বাইরে থেকে আসছে। চিংড়ি ও কাঁকড়ার রপ্তানি, ভোমরা স্থলবন্দর, সুন্দরবন এবং উপকূলীয় সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জেলা এখনও অনেক ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত।

সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষ বসবাস করছে। চিংড়ি উৎপাদনে জেলার অবদান দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ২৭ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন থেকে রফতানি আয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া কাঁকড়া রপ্তানিতে গত বছরে ৪৮.৭ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।

তবে জেলা শহরের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কসমূহ ভাঙাচোরা, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল সংখ্যা সীমিত, আধুনিক স্টেডিয়াম ও সুইমিংপুল নেই। শিল্পায়ন বলতে শুধু বন্ধ হয়ে যাওয়া সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের উল্লেখযোগ্য প্রয়াস দেখা যায়।

স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের উদ্যোগে কিছু সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কালীগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেঠখালী মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১১৩ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। তবে আরও কার্যক্রম দরকার।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, “আমরা নতুন, আধুনিক ও বৈষম্যহীন সাতক্ষীরা গড়ার স্বপ্ন দেখছি।” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোমরা বন্দরের সুবিধা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও চিংড়ি শিল্পকে কাজে লাগিয়ে যদি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়, তবে সাতক্ষীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উপকূলীয় জেলা হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বেশি। স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।